অন্যান্যবাংলাদেশ

পাঠ্যবইয়েও পরিবর্তন, কমবে পরীক্ষা

২০২২ সাল থেকে কার্যকর হতে যাওয়া নতুন কারিকুলামে বিষয় ও পরীক্ষা কমিয়ে, পাঠ্যবইয়েও আনা হচ্ছে পরিবর্তন। প্রাক্-প্রাথমিক শিক্ষা এক বছরের পরিবর্তে হবে দুই বছর। আর, দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকছে না।

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটি পাবলিক পরীক্ষা হবে- যার গড় মিলিয়ে হবে চূড়ান্ত ফল। নতুন এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন শিক্ষা বিশেষজ্ঞরা।

নতুন এ শিক্ষা কারিকুলাম ও পরীক্ষা পদ্ধতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করবে সরকার। এনসিটিবির তথ্যমতে, প্রথম বছরে প্রাক-প্রাথমিক, প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি এবং মাধ্যমিকের ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা নতুন শিক্ষাক্রমের বই পাবে। এরপর ২০২৩ সালে অষ্টম এবং ২০২৪ সালে নবম শ্রেণির শিক্ষার্থীদের দেয়া হবে এটি। একই ধারাবাহিকতায়, ২০২৬ সালে এ বই পাবে উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা।

এ শিক্ষাক্রমে প্রাক্-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শিখন বিষয় ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো- ভাষা ও যোগাযোগ, গণিত ও যুক্তি, জীবন ও জীবিকা, সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, পরিবেশ ও জলবায়ু, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা, মূল্যবোধ ও নৈতিকতা এবং শিল্প ও সংস্কৃতি।

দশম শ্রেণিতে অনুষ্ঠিত প্রথম পাবলিক পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের ১০টি বিষয়ই পড়তে হবে। এর মধ্যে পাঁচটি বিষয়- বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান ও সামাজিক বিজ্ঞানে ৫০ শতাংশ ধারাবাহিক মূল্যায়ন এবং বাকি ৫০ শতাংশ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন করা হবে। এ ছাড়া বাকি পাঁচটি বিষয়ের পুরোটাই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।  তবে, একাদশ ও দ্বাদশ স্তরে এ হার যথাক্রমে ৩০ ও ৭০ শতাংশ।

নতুন পদ্ধতিতে প্রাক-প্রাথমিক থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত শতভাগ ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে ৭০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৩০ শতাংশ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে। আর, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে ৬০ শতাংশ ধারাবাহিক এবং ৪০ শতাংশ পরীক্ষার মাধ্যমে মূল্যায়ন হবে।

তবে জাতীয় শিক্ষানীতিতে উল্লেখ নেই পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির পরীক্ষার বিষয়টি। সরকার নির্বাহী আদেশে এ দুটি  পরীক্ষা নিতে চাইলে, সে ক্ষেত্রে মূল্যায়ন হবে ৭০ ও ৩০ শতাংশ অনুপাতে।

কারিকুলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা ও নম্বর কমিয়ে আনা। এ কারণে, শ্রেণিকক্ষে ধারাবাহিক মূল্যায়নের পরিমাণ বাড়ানো হবে। শিক্ষাক্রমের এই পরিবর্তনকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা  রাশেদা কে চৌধুরী।

তবে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে সরকারকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হবে বলে জানালেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষনা ইন্সটিটিউটের অধ্যাপক ড. এস এম হাফিজুর রহমান।

নতুন এ শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে শিক্ষার মানের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বলেও মনে করছেন, এই বিশেষজ্ঞরা। আর বর্তমান সময়ের বাস্তবতা এবং তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয় মাথায় নিয়ে করা হচ্ছে শিক্ষাক্রম। এটি বাস্তবায়নে আছে চ্যালেঞ্জ। তবে সবার সহযোগিতায় এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করতে চায় সরকার।

হাকিম মোড়ল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button