অন্যান্যবাংলাদেশ

রাজধানীতে অহরহ মাদক নিরাময় কেন্দ্র

সেবার নামে রাজধানীতে ব্যাঙের ছাতার মত গড়ে উঠেছে মাদক নিরাময় কেন্দ্র। সারাদিন আটকে রাখা আর মারধর করাই যেন একমাত্র চিকিৎসা, নিরাময় কেন্দ্রগুলোর। এমন নির্মমতার কথা চার দেয়ালের বাহিরে গেলেই রোগীদের ওপর  নেমে আসে অত্যাচারের খড়গ। এছাড়া, মাদক সেবনের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে নিরাময় কেন্দ্র গুলো ব্যবহার হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

বাংলা টিভির সাথে আলাপচারিতায় রাজধানীর যাত্রাবাড়ি এলাকার মাদক নিরাময় কেন্দ্রের মালিক দুলাল করোনার কারণে নিরাময় কেন্দ্র পরিচালনা থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেয়ার কথা বললেও তার মালিকানাধীন মদিনা ডায়াগনষ্টিক সেন্টারের আড়ালেই চলছে হ্যাপি মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্র। যেখানে দেখা মিলল দশজনেরও বেশি মাদকাসক্ত রোগী।

নিজেকে একজন স্বজ্জন ব্যক্তি দাবি করলেও সরকারের কোন সংস্থার অনুমোদন ছাড়াই দুলালের এই নিরাময় কেন্দ্রে দেখা মিলল টর্চার সেলের। যাত্রাবাড়ি ছাড়াও রাজধানীর শনির আখড়া, মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অনুমোদনহীন অসংখ্য মাদক নিরাময় কেন্দ্র। নেই লাইসেন্স, নেই চিকিৎসক তারপরও যেন রোগীর কমতি নেই। আছে চিকিৎসার নামে নানা অনিয়মের অভিযোগ।

এদিকে, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী দেশে অনুমোদিত নিরাময় কেন্দ্রের সংখ্যা ৩৫১ টি। এর বাইরে অনুমোদন ছাড়া চলছে অসংখ্য নিরাময় কেন্দ্র। অবৈধ নিরাময় কেন্দ্র বন্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কাজ করে যাচ্ছে বলে জানানো হয় প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে।

যত্রতত্র গড়ে ওঠা এসব প্রতিষ্ঠানে যথাযথ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা না থাকায় প্রতারিত হচ্ছে হাজার হাজার মাদকাসক্তি রোগী ও তাদের পরিবার। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বা অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের নজর এড়িয়ে মাদকাসক্ত নিরাময় কেন্দ্রগুলো কিভাবে রাজধানীর বুকে ব্যবসা করে যাচ্ছে তা নিয়ে রয়েছে নানা প্রশ্ন।

আরমান কায়সার, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button