দেশবাংলা

অস্থিত সংকটে রূপগঞ্জের তাবিজ শিল্প

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে তাবিজ শিল্পের উপর নির্ভর করে বেঁচে আছে ৪শ পরিবার। এক সময় এ শিল্পের ব্যপক সাফল্য থাকলেও বর্তমানে কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধি ও পুজি সংকটে এ শিল্পের কারিগরদের দুঃখ-দুর্দশার যেন শেষ নেই। শিল্পটি এখন অস্থিত্ব সংকটে।

স্বাধীণতার পূর্ব থেকে রূপগঞ্জের মুশরী, বিংরাবো, দক্ষিণবাগ সহ আশেপাশের ৩ গ্রামের মানুষ তাবিজ শিল্পের উপর ভর করেই জীবিকা নির্বাহ করছে। কিন্তু স্বাধীণতার এতো বছরে সময়ের সাথে সব কিছুতে পরিবর্তনের ছোয়া লাগলেও কোন পরিবর্তন আসেনি অবহেলিত এ তাবিজ ব্যবসায়ীদের ভাগ্যে। দিনরাত পরিশ্রম করেও এখন তাবিজ কারিগররা অর্ধহারে-অনাহারে দিন কাটাচ্ছেন।

এক সময় এ শিল্পের কারিগরদের হাতে তৈরি তাবিজ জেলা ছেড়ে চট্টগ্রাম সহ সারা দেশ ছাড়িয়ে ভারত সহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে রপ্তানী হতো। এখনও তার ব্যতিক্রম নয়। কিন্তু আগে পরিশ্রম করে যে টাকা রোজগার করতে পারতেন তাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে খেয়ে পড়ে ভাল ভাবে বাঁচতে পারতেন।

কিন্তু এখন আগের চেয়ে বেশি পরিশ্রম করেও পাইকারদের পুঁজিতে ব্যবসা করায় ও কাঁচামালের মূল্য বৃদ্ধিতে এ শিল্পে এখন চলছে অস্তিত্বের লড়াই।

তাবিজ ব্যবসায়ী হারিস বিশ্বাস, নরেন্দ্র বিশ্বাস, মজু মিয়া, নিল মিয়া, চান্দু মিয়া, ফুল চান, গৌরাঙ্গ বিশ্বাস, সনজিবন দাস সহ আরো অনেকে জানান, একটি তাবিজ তৈরি করতে টিনকাঁটা, বাঁধাই করা, ঝালাই করা, পোড়ানো, মাটি পরিষ্কার সহ ১৭ রকমের কাজ করতে হয়। এতে প্রতিটি তাবিজ তৈরি করতে খরচ পড়ে ৫৫-৬০ পয়সা অথচ পাইকারদের পুজিতে ব্যবসা করায় তাদের কাছে ওই তাবিজটি বিক্রি করতে হয় ৬০-৭০ পয়সায়।

আর নিজস্ব পুজিতে ব্যবসা করলে একই তাবিজ বিক্রি করা যেতো ৮০-৯০ পয়সায়। ফলে লাভের বেশির ভাগ অংশই চলে যায় পাইকারদের পকেটে। তারা আরো জানান, আমাদের বাপ-দাদার এই ব্যবসাটি এখন পুজির অভাবে অস্তিত্ব সংকটে। সারা বছর পরিশ্রম করেও তাবিজ কারিগরদের পবিারের লোকেরা দু-বেলা দু মুঠো ভাত খেতে পায়না। আর এই সামন্য আয় দিয়ে পরিবার চালিয়ে ছেলে-মেয়েদের পড়াশুনা চালানো যেন দু:স্বপ্নের মতো।

প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নের এই দেশে এখনও আমরা দিনরাত পরিশ্রম করে দু মুঠো খাবারের নিশ্চয়তা পাইনা। সরকার বিভিন্ন খাতে অনেক রকমের আর্থিক সহায়তা দিচ্ছে, যদি আমাদেরকে পুজির ব্যবস্থা করে দিতেন তবে আমরা আমাদের বাপ-দাদার ব্যবসাটিকে টিকিয়ে রাখতে পারতাম। আর পরিবার-পরিজন নিয়ে একটু ভাল ভাবে বাঁচতে পারতাম।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান জানান, তাবিজ শিল্পের বিষয়টি আমার জানা নেই।

সোহেল কিরণ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button