দেশবাংলা

চিকিৎসার অভাবে শিকল বন্দি ৪ বছর

একদিন নয় ২ দিন নয়। একই শিকলে বন্দি হয়ে কেটে গেছে টানা ৪ বছর। মেন্টাল হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেয়ার পর এভাবেই কাঁটছে মেধাবী শিক্ষার্থী রুহুল আমীনের জীবণ।

সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের মুশরী এলাকার ইদ্রিস আলীর ছেলে রুহুল আমীন। ৪ ভাইয়ের মধ্যে সে ৩য়। পড়াশুনা করতো উপজেলার মাঝিনা আলিম মাদ্রাসায়। ২০১০ সালে ওই মাদ্রাসা থেকে বানিজ্যিক বিভাগ থেকে ৪.৮১ পয়েন্ট পেয়ে দাখিল সমমান এসএসসি পাশ করে। তারপর ওই মাদ্রাসায়ই ভর্তি হন আলিম বা এইচএসসিতে।

হঠাৎ একদিন ক্লাশ শেষে বাড়ি ফিরে মাথায় তীব্র যন্ত্রণার কথা জানান পরিবারের সদস্যদের। প্রথমে বিষয়টি সাভাবিক বলে মনে করেন তার পরিবারের সদস্যরা। ২-৩দিনের মধ্যেই রুহুল আমীন অকারনেই হাসতে থাকেন এবং অস্বাভাবিক ভাবে এদিকে সেদিকে ছুটাছুটি করতে থাকেন।

তখন তাকে চিকিসার জন্য নিয়ে যান বেসরকারী ক্লিনিকে। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে নিয়ে আসেন বাড়িতে। সেই থেকে রুহুল আমীন আর স্বাভাবিক জীবণে ফিরে আসতে পারেনি।

রুহুল আমীনের বাবা ইদ্রিস আলী জানান, পেশায় তিনি একজন দিনমজুর। ৪ ছেলে ও স্ত্রী নিয়ে মাথা গোজার ঠাঁই ছাড়া আর কোন সহায় সম্পত্তি নেই তাদের। নানা টানাপোড়নেই চলছিল তাদের সংসার। প্রথম দিকে বিভিন্ন ডাক্তার ও হাসপাতালে রুহুল আমীনের চিকিৎসা করান তিনি।

সেখান থেকে জানানো হয় তাকে মানসিক হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে। তাদের কথা মত নিয়ে যাওয়া হয় জাতীয় মানসিক হাসপাতালে। ১ মাস চিকিৎসার পর বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তাকে। কিন্তু তার অসাভাবিক জীবণ-যাবণ তাদেরকে ভাবিয়ে তোলে। এর মধ্যে রুহুল আমীন সুযোগ পেলে সবাইকে কিল-ঘুষি বা লাঠিয়ে আঘাত করে। আবার কখনও নিজের ঘরের বেড়া ভেঙ্গে ফেলে।

যখন তার পাগলামীর পরিমান দিন দিন বাড়তেই থাকে তখন তাকে আলাদা ঘরে শিকল দিয়ে বন্দি করে রাখা হয়। এভাবে ৪ বছর ধরে শিকলে বন্দি হয়ে আছে সে। এরমধ্যে তার মা ক্যান্সারে আক্রান্ত হলে গ্রামবাসীর সহযোগীতার তার মায়ের চিকিৎসা চলছিলো। কিন্তু চিকিৎসা শেষ হওয়ার আগেই তিনি না ফেরার দেশে চলে যান।

একদিকে স্ত্রী হারিয়ে অন্যদিকে আদরের সন্তানের এই বন্দি দশা দেখে মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পরেন তিনি। তার অন্যান্য ছেলেরাও সবাই দিনমজুরের কাজ করেন। ফলে রুহুল আমীনের চিকিৎসা ব্যয় বহন করা অসহায় এই পরিবারটির পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে।

স্থানীয় গ্রামবাসী বাদল গাজী, খবির উদ্দিন, ইমরান ভুঁইয়া, মাসুদ রানা, আলমগীর হোসেন, আলমগীর মুন্সি, বাবুল হোসেন জানান, রুহুল আমীনের দরিদ্র পরিবারের পক্ষে আর তার চিকিৎসার ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। এতোদিন গ্রামবাসীর কাছ থেকে সাহায্য নিয়েও চিকিৎসা করানো হয়েছে। বর্তমানে এও বন্ধ প্রায়।

রুহুল আমীনকে উন্নত চিকিৎসা করালে সে স্বাভাবিক জীবণে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু দরিদ্র এ পরিবারটির পক্ষে আর তা সম্ভব নয়। তাই মেধাবী এ শিক্ষার্থীর উন্নত চিকিৎসার জন্য বৃত্তবানদের কাছে সহযোগীতার অনুরোধ জানিয়েছেন অসহায় এ পরিবারের সদস্য সহ গ্রামবাসীরা।

এ বিষয়ে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ্ নুসরাত জাহান জানান, পরিবাররটির পক্ষ থেকে আবেদন করা হলে সমাজ সেবা অধিদপ্তর ও সিভিল সার্জন সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সোহেল কিরণ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button