অন্যান্যবাংলাদেশ

১১ ডিসেম্বর: ঢাকা জয়ের লক্ষ্যে এগোতে থাকে মুক্তিযোদ্ধারা

১১ ডিসেম্বর, ১৯৭১। এ দিন জয়ের লক্ষ্যে বীরদর্পে এগিয়ে যাওয়া মিত্রবাহিনী অনেকটাই নিশ্চিত হয়ে যায়, পাকিস্তানের পরাজয় আসন্ন। বেসামাল প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান, পরাজয় এড়াতে কৌশল হিসেবে জাতিসংঘকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের অপচেষ্টা করে। এদিকে, বিভিন্ন স্থানে মুক্তাঞ্চল প্রতিষ্ঠার পর ঢাকা জয়ের লক্ষ্য নিয়ে এগোতে থাকে বীর মুক্তিযোদ্ধারা।

একাত্তরের ১১ ডিসেম্বর দেশের বিস্তীর্ণ এলাকা মুক্ত  ক’রে, নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা অব্যাহত রাখে মুক্তিবাহিনী। জামালপুর, ময়মনসিংহ, গাইবান্ধা, চণ্ডীপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, ফুলছড়ি ঘাট ও বাহাদুরবাদ ঘাটসহ মুক্ত হয় অবরুদ্ধ বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা।

জামালপুর গ্যারিসনে অবস্থানকারী পাকিস্তানি বাহিনী ২১ বেলুচ রেজিমেন্টের ৬ জন অফিসার ও ৫২২ জন সেনা যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে।

এদিকে, পরাজয় নিশ্চিত জেনে বেসামাল হয়ে পড়েন ইয়াহিয়া খান।  কৌশল হিসেবে জাতিসংঘকে ব্যবহারেন অপচেষ্টা করেন এই সামরিক জান্তা। বঙ্গোপসাগরের অভিমুখে তখনো ছুটে আসছে আমেরিকার সপ্তম নৌবহর। এই দিনে তৎকালীন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হেনরি কিসিঞ্জার ভারতকে যুদ্ধবিরতি মেনে নেয়ার অনুরোধ করেন। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্র সামরিক ব্যবস্থা নেবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

অপ্রতিরোধ্য মুক্তিপাগল বীর যোদ্ধারা এদিন এগোতে থাকে ঢাকার দিকে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসতে থাকে বিজয়ের খবর। সেদিনের তরুণ বয়সের স্মৃতি আজও জীবন্ত হয়ে আছে এ বীর মুক্তিযোদ্ধার কাছে।

এদিন মার্কিন নৌবহরের আগমনী বার্তাও মুক্তিযোদ্ধাদের বিন্দুমাত্র বিচলিত করতে পারেনি বলেও জানান, জাতির এই শ্রেষ্ঠ সন্তান। একাত্তরের এইদিনে চারদিক থেকে বিজয়ের খবর আসতে থাকায়, জয় বাংলা ধ্বনিতে প্রকম্পিত হতে থাকে দেশের মুক্তাঞ্চলগুলো।

আরমান কায়সার, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button