অন্যান্যবাংলাদেশ

১৫ ডিসেম্বর: বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বাঙালী

১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১। বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে বাঙালী। মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর যৌথ আক্রমণে সেদিন আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় পাকিস্তানী বাহিনীর অনেক ইউনিট। রাজধানীর বিভিন্ন পাকি আস্তানায় দিনভর চলে মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় জঙ্গি বিমানের আক্রমণ। সারাদেশেই পর্যুদস্ত পাকি বাহিনীর পরাজয়ের ক্ষণগণনা শুরু হয়।

১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর পাকিদের নীলনকশায় নিভিয়ে দেয়া হয় বাঙালির মেধার আলো। বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তান বুদ্ধিজীবীদের হত্যার ঠিক দুই দিন পর ১৬ ডিসেম্বর জেনারেল নিয়াজির নেতৃত্বাধীন বর্বর পাকি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে এবং স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

পাক বাহিনীর জেনারেল নিয়াজির যুদ্ধ-বিরতির প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে ১৫ ডিসেম্বর ভোর পাঁচটা থেকে ঢাকার ওপর বিমান হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেয়া হয়। পাশাপাশি, যৌথ বাহিনীর তরফ থেকে পাক বাহিনী আত্মসমর্পণ না করা পর্যন্ত যুদ্ধ-বিরতি না মানার কথাও জানিয়ে দেয়া হয়।

ওইদিন বিকেলে যৌথবাহিনী বিনা প্রতিরোধে সাভারে প্রবেশ করে। এ সময় পিছু হটে রাজধানীর প্রবেশমুখ মীরপুর ব্রীজের ওপর প্রতিবন্ধক গড়ে তোলে পাক বাহিনী। ওইদিন সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম শহরের বেশকিছু স্থান দখলে নেয় মুক্তিযোদ্ধারা। ঘিরে ফেলে রংপুর শহরও। ফরিদপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে সদল-বলে পালাতে থাকে পাকবাহিনী।

ওইদিন, সন্ধ্যার আগে ঢাকার আকাশে আবারো দেখা যায় ভারতীয় বোমারু বিমান।  ভারতের সেনা প্রধান আত্মসমর্পণের জন্য পাক বাহিনীকে শেষবারের মতো নির্দেশ দেন। ১৫ ডিসেম্বর চট্টগ্রামের কুমিরায়, পাকিস্তানী ঘাঁটিতে জোর আক্রমণের ফলে ফৌজদারহাটের দিকে পালিয়ে যায় পাকিস্তানী সেনারা।

প্রচণ্ড যুদ্ধের পর সেদিন হানাদার মুক্ত হয় সিলেটের খাদিমনগর। আশপাশের এলাকাগুলোও শত্রুমুক্ত করার পর মুক্তিবাহিনী ও মিত্র বাহিনী ঘিরে ফেলে রাজধানী ঢাকা। ইতিহাস-ঐতিহ্যে ভরপুর গাজীপুরও মুক্ত হয় একাত্তরের এই দিনে। এতে পাক বাহিনীর বিভিন্ন ভারী অস্ত্র ও যান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়।

পাকিস্তান বাহিনীকে আত্মসমর্পণের জন্য ভারতীয় সেনাপ্রধানের ঘোষণার পর ১৫ ডিসেম্বর বিকেল ৫টা থেকে পাকিস্তানী অবস্থানগুলোর ওপর বোমা বর্ষণ বন্ধ করে মিত্রবাহিনী।

হাকিম মোড়ল, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button