দেশবাংলা

রায়পুরে স্কুলের জমি দখলচেষ্টা বন্ধ করল ৯৯৯

লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার দক্ষিণ-পূর্ব কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টার সময় ৯৯৯ নাম্বারে কল পেলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায় এবং জমি দখল বন্ধ করে। শনিবার (২ জানুয়ারি) সকালে এ ঘটনা ঘটে। এরআগেও দুই বছর আগে বিদ্যালয়ের জমি দোকান দখল করে একটি দোকানঘর নির্মাণ করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, মালিকানা দাবি করে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) নায়েক বিল্লাল হোসেন জমিটি দখলের জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের ব্যবহার করে বিদ্যালয়ের জমি দখলসহ এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন।

সূত্র জানায়, ১৯৬৫ সালে দক্ষিণ-কেরোয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা হয়। ৩০ নম্বর কেরোয়া মৌজায় ১২৫৫৯ দাগে ১৯৭০ সালে আইয়ুব আলী ও মো. এসহাক বিদ্যালয়ের জন্য ৫০ শতাংশ জমি দান করেন। পরে জমি কম থাকায় আইয়ুব আলী আরও ৩ শতাংশ জমি ক্রয় করে বিদ্যালয়ের নামে দেয়।

একই দাগে বিজিবি নায়েক বিল্লালের বাবা হাবিব উল্যাহ দক্ষিণ-পূর্ব কেরোয়া জামে মসজিদের নামে ৩ শতাংশ জমি ওয়াকফ করে দেয়। পরবর্তীতে ১২৫৫৯ দাগটি ১৩৬০২ ও ১৩৬০৩ হাল দাগ করা হয়। এতে বিদ্যালয়ের জমি ১৩৬০২ ও মসজিদের জমি ১৩৬০৩ দাগে পড়ে। কয়েক বছর আগে হাবিব উল্যা মসজিদের নামে ওয়াকফ করে দেওয়া জমিটির জন্য লক্ষ্মীপুর ল্যান্ড সার্ভে ট্রাইব্যুনালে মামলা দায়ের করেন।

হাবিব মারা যাওয়ার পর ওই মামলা পরিচালনা করে তার ওয়ারিশ বিল্লালসহ সন্তানরা। এরপর থেকেই বিজিবির ক্ষমতা দেখিয়ে বিল্লাল প্রায় ২ বছর আগে বিদ্যালয়ের জমিতে জোরপূর্বক একটি দোকানঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছে।

এদিকে, জমিটি দখলে নিতে বিজিবি নায়েক বিল্লাল বাদী হয়ে বিদ্যালয়ের জমি দাতাদের পরিবারের ৭ জনের বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করা হয়। আদালত ঘটনাটি জেলা গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত দেয়।

গত ১৯ ডিসেম্বর জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ এ কে ফজলুল হক আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন। এতে বাদীর উল্লেখ করা হত্যার চেষ্টা, চাঁদাবাজীসহ বেশিরভাগ তথ্যই মিথ্যা বলে প্রমাণিত হয়।

এলাকাবাসী জানায়, বিল্লাল টাকার বিনিময়ে রায়পুর উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের যুগ্ম-আহবায়ক জামাল পাটওয়ারী ও পারভেজ হোসেন পলাশসহ ১৫-২০জন লোক বিদ্যালয়ের জমি দখলে নিতে আসে। ৯৯৯ নাম্বারে কল দিলে থানা পুলিশ ঘটনাস্থল গিয়ে বিল্লালের লোকজনকে ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেয়। জামাল ও পারভেজ লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সাংসদ কাজী শহীদ ইসলাম পাপুলের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

দক্ষিণ-পূর্ব কেরোয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. এসহাক বলেন, বিল্লালের বাবা মসজিদের জন্য জমি দান করেছে। বিল্লাল এখন জোরপূর্বক বিদ্যালয়ের জমি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। এরআগেই বিদ্যালয়ের জমিতে জোরপূর্বক দোকান নির্মাণ করেছে।

বিজিবি নায়েক বিল্লাল হোসেন বলেন, বিদ্যালয়ের জমি আমি দখল করিনি। দখল করা জমিটি আমাদের। বিদ্যালয়ের জমি উদ্ধার হোক তা আমিও চাই।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল জলিল বলেন, জমি নিয়ে দু’পক্ষেরই আদালতে মামলা চলে। খবর পেয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য আমরা দোকান নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখার জন্য নির্দেশনা দিয়েছি।

জামাল উদ্দিন, লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button