দেশবাংলা

‘মাদকসেবী ও নারী কেলেংকারিরা যেন দলের মনোনয়ন না পায়’

‘সরকারের নীতিনির্ধারকদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে এমপি থেকে ইউনিয়ন মেম্বার পর্যন্ত জনপ্রতিনিধি কেউ মাদকসেবী ও নারী কেলেংকারি হলে দলের মনোনয়ন যাতে না পায় এবং দলের কেন্দ্র থেকে ওয়ার্ড পর্যন্ত কোনো পদে কেউ আসতে পারবে না।

এ ঘোষণার পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি চাকরি দেওয়ার সময় ডোপ টেস্ট করতে হবে’ বলে মন্তব্য করেছেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই বসুরহাট পৌরসভার মেয়রপ্রার্থী আবদুল কাদের মির্জা এ কথা বলেন।

রোববার (১০ জানুয়ারি) বসুরহাট পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে ৯নং ওয়ার্ড হাজীপাড়ায় এক পথসভায় এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, ‘যে ব্যক্তি আমাকে পাগল ও উন্মাদ বলেছেন তিনি গোপালগঞ্জের এমপি। যেখানে ৯৯ পারসেন্ট মানুষ আওয়ামী লীগ করেন। তিনি তো নিজের যোগ্যতায় এমপি হননি। আওয়ামী লীগ করেন, সে কারণে এমপি হয়েছেন।

তিনি আগে মন্ত্রী ছিলেন এবার মন্ত্রীও হতে পারেননি, কেন বাদ পড়েছেন? দায়িত্বশীল নেতাদের উচিত খবর নিয়ে কথা বলা। ওবায়দুল কাদের সাহেবকে আগামীতে জিততে হলে আরও সতর্ক হতে হবে। নিজের বউকে সামলাতে হবে। সঙ্গে যারা চলে, তাদের ওপর নজর রাখতে হবে, কে কোথায় থেকে মাসোয়ারা নেয় সে দিকেও লক্ষ রাখতে হবে।

আবদুল কাদের বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব আমার সঙ্গে নেই, কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে নেই, নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগ আমার সঙ্গে নাই, ডিসি, এসপি আমার সঙ্গে নেই। তবে আমার সঙ্গে জনগণ আছে। ওবায়দুল কাদের সাহেব বলেন, আমি অসুস্থ, মরে যাব; এ কথাগুলো শুনলে আমি দুর্বল হয়ে যাই।

তোদের ওপর আল্লাহর গজব পড়ুক কেন্দ্রীয় থেকে এ পর্যন্ত যারা এগুলো করছে। চারদিকে বারুদের গন্ধ পাই, অস্ত্রের ঝনঝনানি শুনি, যে কোনো সময় আমার জীবন বিপন্ন হতে পারে। আপনারা আমাকে কবর দিয়ে আসবেন। পত্রপত্রিকা আসলগুলো লেখে না, এডিট করে আমার কথা বিকৃত করে।

এগুলো প্রধানমন্ত্রী ও আমাদের মন্ত্রীর নিকট পাঠিয়ে আমার বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলছে। পনেরো আনা মানুষ আমার প্রশংসা করে এক আনা মানুষ আমার সমালোচনা করে। আমি নির্বাচনকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নিয়েছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ওবায়দুল কাদের সাহেব ঘরে ঘরে চাকরি দেবেন বলেছেন, সে চাকরি এখন কোথায়? এ কথা বললে আমি পাগল, উন্মাদ। শরম যদি লাগেগো…ঘোমটা দিয়ে চলগো বলে একটা ছন্দ বলেন মির্জা। কাদের সাহেব আমাকে এগোতে দেননি। অসুস্থ হলে ঢাকায় ভর্তি হতে গেলে তিনি আমাকে চট্টগ্রাম ভর্তি হতে বলেন। ঢাকায় ভর্তি হলে যদি আমি বড় নেতা হয়ে যাই।’

তিনি আরও বলেন, ‘নোয়াখালীর ডিসি, এসপি, জেলা নির্বাচন অফিসার আজ ষড়যন্ত্র করছে। আমাদের নেতাদের অনেকের গায়ের জোর ও বল সবসময় থাকবে না। জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট আমার আবেদন, আপনার বাবা এ দেশ স্বাধীন করেছেন, আপনি পারবেন এ দেশের মানুষের ভোটের অধিকার দিতে।

সম্রাট, জিকে শামীম ও পাপিয়াদের পৃষ্ঠপোষকদের বিচার করতে হবে। তাহলে দেশে শান্তি আসবে, দেশ স্বাভাবিক হবে এবং বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আমরা গড়তে পারব।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button