দেশবাংলা

নিষেধ উপেক্ষা করে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে বাড়তি ফি আরোপ

সরকারের নিষেধ উপেক্ষা করে পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ইচ্ছে মতন বিভিন্ন ফি আরোপ করলেন শিক্ষক নেতারা আর তা বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষকদের নির্দেশ দিলেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।

করোনা কালীন সময়ে সরকার যেখানে কমপক্ষে সাতটি খাতে কোন প্রকার ফি নিতে নিষেধ করেছেন, সেখানে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সেই নিষেধকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে উল্ল্যেখিত ফি নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে শিক্ষার্থী ও অভিবাবকদের মধ্যে।

ফি নির্ধারণ দিয়ে গত ১৮ নবেম্ভর নির্দেশনা জারি করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড (মাউশি)। সেখানে বলা হয় বেসরকারী মাধ্যমিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো ( এমপিওভুক্ত ও এমপিও বিহীন) শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে শুধু মাত্র টিউশন ফি গ্রহন করতে পারবে।

কিন্তু অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পূণ:ভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যগাজিন ও উন্নয়ন বাবদ কোন ফি গ্রহন করবে না বা করা হলে ফেরত দিবে অথবা টিউশন ফি এর সঙ্গে সমন্বয় করবে। নির্দেশনায় আরো বলা হয়, যদি কোন অভিবাবক চরম আর্থিক সংকটে পতিত হন, তাহলে তার সন্তানের টিউশন ফি এর বিষয়টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ বিশেষ বিবেচনায় নিবেন।

কোন শিক্ষার্থীর শিক্ষা জীবন যেন কোন কারণে ব্যাহত না হয় সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলকে যত্নশীল হতে হবে। পাশাপশি বলা হয় ২০২১ সালের শুরুতে যদি কোভিট-১৯ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হয়, তাহলে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পূণ:ভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যগাজিন ও উন্নয়ন ফির নামে অর্থ নিতে পারবেন না।

সূত্র জানায়, গত ২৭ ডিসেম্বর বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে একটি চিঠি প্রেরণ করেন। এর আগে ১৬ নভেম্বর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসে বাউফলের ৬১টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬৬টি দাখিল মাদ্রাসার প্রধানদের সমন্বয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ওই সভায় উপজেলার সকল প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন ফিস নির্ধারণের জন্য একটি আহবায়ক কমিটি গঠন করা হয়। বাউফল উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও ছিটকা মহসীন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মরিয়ম বেগম নিশুকে ওই কমিটির আহবায়ক করা হয়।

ওই আহবায়ক কমিটির সিদ্ধান্ত মোতাবেক প্রতিটি বিদ্যালয়ে ষষ্ঠ শ্রেণিতে ২৬২০ টাকা, সপ্তম শ্রেণিতে ২৭২০ টাকা, অষ্টম শ্রেণিতে ৩০২০ টাকা, নবম শ্রেণিতে ৩২২০ টাকা ও দশম শ্রেণিতে ৩৫২০ টাকা ফি নির্ধারণ করা হয়। উল্ল্যেখিত ওই ফিতে অ্যাসাইনমেন্ট, টিফিন, পূণ:ভর্তি, গ্রন্থাগার, বিজ্ঞানাগার, ম্যগাজিন ও উন্নয়ন ফি ধরা হয়েছে। যা সরকারের নিষেধকে উপেক্ষা করা হয়েছে।

ওই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একটি চিঠি প্রেরণ করেছেন। ওই চিঠির আলোকে নতুন বছরের প্রথম দিন থেকে উপজেলার প্রায় সকল বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের খবর দিয়ে নতুন শ্রেণিতে ভর্তির নির্দেশ দিচ্ছেন শিক্ষকরা।

উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অভিন্ন ফিস নির্ধারণ কমিটির আহবায়ক মরিয়ম বেগম নিশু বলেন, আমরা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছি তা করোনাকালীন সময়ে প্রযোজ্য হবে না। তবে নতুন বছরের সেশন ফি নেওয়ার ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। এখনও পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কোন নির্দেশনা পাইনি।

বাউফল উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাজমুল হক বলেন, সকল শিক্ষকরা অভিন্ন ফিস নির্ধারণের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। চিঠিতে আমি সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের নির্দেশ দিয়েছি। কিন্তু সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রধানকে ফিস আদায় সহ সকল ক্ষেত্রে শিক্ষা মন্ত্রাণালয়ের নির্দেশ অনুসরণ করতে হবে।

কৃষ্ণ কর্মকার, বাউফল প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button