
টেকনাফের শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে স্বেচ্ছায় তৃতীয় দফায় ভাসানচরের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছে রোহিঙ্গাদের আরেকটি দল। বৃহস্পতিবার সকালে উখিয়া ডিগ্রি কলেজের মাঠ থেকে চট্টগ্রামের পথে তাদের নিয়ে রওনা দিয়েছে ১৬টি বাস। মালপত্র বহন করছে আরও কয়েকটি ট্রাক।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনের একটি সূত্রের দাবি, সপরিবারে আনুমানিক ৫০০ রোহিঙ্গা উঠেছেন বাসগুলোতে। তবে আজ আরও বাস যাবে এবং মোট সংখ্যা এ প্রক্রিয়া শেষে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
রোহিঙ্গাদের ক্যাম্প ছেড়ে ভাসানচরের পথে যাওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. মামুনুর রশীদ। তিনি জানান, বেলা ১২টার দিকে রোহিঙ্গাদের একটি দল বাসে করে ভাসানচরের উদ্দেশ্যে উখিয়া ত্যাগ করেছে। দিন শেষে মোট কতজন যাচ্ছে সেটা বলা যাবে। ধাপে ধাপে রোহিঙ্গাদের যারা যেতে ইচ্ছুক তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
জানা গেছে, উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্প থেকে ভাসানচরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে গত রাত থেকেই রোহিঙ্গারা সপরিবারে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ মাঠে আসতে থাকে। সকালের মধ্যে সেখানে হাজার খানেক রোহিঙ্গাকে দেখা গেছে।
সরেজমিন দেখা গেছে, তাদের নাম নিবন্ধন চলছে। যাদের নিবন্ধন সম্পন্ন হচ্ছে তাদের মালপত্র ট্রাকে তুলে পরিবার সদস্যদের বাসে ওঠানো হচ্ছে। প্রথমে ১৬টি বাসে তাদের ওঠানো হয়। এগুলোর কোনও বাস ভরা আবার কোনোটাতে কম যাত্রী দেখা গেছে। নিবন্ধন প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। প্রথম ধাপের পর দ্বিতীয় ধাপে আবারও বাস সাজানো হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের তোলার জন্য নিবন্ধনের কাজও চলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, আজ সন্ধ্যা বা রাতের মধ্যে বাসে ওঠা নিবন্ধিত রোহিঙ্গারা চট্টগ্রামের বিএন শাহীন কলেজের ট্রানিজট ক্যাম্পে পৌঁছাবেন। সেখানে চূড়ান্ত প্রক্রিয়া শেষে নৌবাহিনীর ব্যবস্থাপনায় আগামীকাল তাদের জাহাজে তোলা হবে। ২৯ জানুয়ারি তারা ভাসানচরে পৌঁছাবেন।
গত ২৯ ডিসেম্বর ১ হাজার ৮০৪ জনের দ্বিতীয় দলটিকে ভাসানচরে নেওয়ার ঠিক এক মাস পরে রোহিঙ্গাদের তৃতীয় দলটি সেখানে যাচ্ছে। এর আগে গত ৪ ডিসেম্বর প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬৪২ জন রোহিঙ্গা হাসিমুখে ভাসানচরে পৌঁছায়।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা স্থানান্তরের জন্য নিজস্ব তহবিল থেকে ৩ হাজার ৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ভাসানচর আশ্রয়ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে সরকার। সেখানে এক লাখ রোহিঙ্গা বসবাসের উপযোগী ১২০টি গুচ্ছগ্রামের অবকাঠামো তৈরি করা হয়েছে।
বাংলাটিভি/শহীদ



