আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

কুকুরের উৎপাত নিয়ে ৬ মাসেও ব্যবস্থা নেই, কর্মকর্তার টেবিলে কুকুর ছেড়ে প্রতিবাদ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের মহারাষ্ট্রের নাসিকে পথকুকুরের উৎপাত নিয়ে অভিনব প্রতিবাদ করেছেন শিবসেনা (ইউবিটি)-এর যুব শাখার নেতাকর্মীরা। অভিযোগ, বারবার জানানো হলেও পথকুকুর নিয়ন্ত্রণে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর প্রতিবাদে নিফাদ নগর পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামরের কার্যালয়ে ঢুকে তার টেবিলের ওপর একে একে চারটি কুকুর ছেড়ে দেন তারা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে দেখা যায়, শিবসেনা (ইউবিটি)-এর যুব শাখার জেলা প্রধান বিক্রম রনধাভে একটি বস্তার মুখ খুলে একটি ছোট কুকুর কর্মকর্তার টেবিলের ওপর ছেড়ে দেন।

হঠাৎ কুকুর ছেড়ে দেওয়ায় চমকে যান কর্মকর্তা ধীরজ ভামর। তিনি কিছুক্ষণের জন্য চেয়ার থেকে সরে যান। পরে আবার নিজের জায়গায় ফিরে আসেন। বস্তার মধ্যে আটকে থাকা কুকুরটি আতঙ্কিত হয়ে দৌড়ে অফিসের এক কোণে চলে যায়। কিছুক্ষণ পর আরও একটি কুকুর বের করে টেবিলের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়। সেটি টেবিলের ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে একটি চেয়ারে বসে পড়ে।

পরে রনধাভে গলায় ২০ রুপির নোট দিয়ে তৈরি একটি মালা পরেন। তিনি কর্মকর্তার দিকে এগিয়ে যেতে চাইলে সেখানে থাকা কয়েকজন তাকে বাধা দেন। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটিও হয়। রনধাভে গত ছয় মাসে পথকুকুরের সমস্যা নিয়ে প্রধান কর্মকর্তার কাছে কতবার অভিযোগ করা হয়েছে, সে বিষয়টি তুলে ধরেন।

এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রনধাভে দাবি করেন, নিফাদ এলাকার বিভিন্ন গ্রাম, সড়ক ও অলিগলিতে পথকুকুরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত ছয় মাস ধরে তিনি বিষয়টি নিয়ে পঞ্চায়েতের প্রধান কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে আসছিলেন।

রনধাভের অভিযোগ, পথকুকুরের হামলায় শিশুদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষ ও নারীরাও সমস্যায় পড়ছেন। তিনি দাবি করেন, এলাকার পরিস্থিতির ছবি দেখানো এবং একাধিকবার অভিযোগ জানানোর পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণেই প্রতিবাদের অংশ হিসেবে কর্মকর্তার টেবিলে চারটি কুকুর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রধান কর্মকর্তা এলাকার পথকুকুরের সমস্যা সমাধানের বদলে মূলত টেন্ডার-সংক্রান্ত কাজে বেশি ব্যস্ত থাকেন। প্রতিবাদের অংশ হিসেবে নেতাকর্মীরা ২০ রুপির নোট দিয়ে তৈরি মালাও নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সেগুলো কর্মকর্তার টেবিলে রাখা হয়।

রনধাভে ঘটনাটিকে ‘শেষ সতর্কবার্তা’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, আগামী আট দিনের মধ্যে পথকুকুরের সমস্যা সমাধানে ব্যবস্থা না নিলে কর্মকর্তার কার্যালয়ে আরও কুকুর নিয়ে যাওয়া হবে।

গণেশ উৎসবের সময় পথকুকুরের উৎপাত আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে বলেও দাবি করেন তিনি। তার ভাষ্য, মানুষ যখন আরতির জন্য বের হন, তখন অনেক সময় পথকুকুর তাদের পিছু নেয় এবং ছোট শিশুরাও কুকুরের কামড়ের শিকার হচ্ছে।

প্রধান কর্মকর্তা ধীরজ ভামর এ বিষয়ে বিষয়টির গুরুত্ব বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেছেন রনধাভে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button