৩৬৫ দিন টাইপোগ্রাফি চ্যালেঞ্জ

যাত্রা শুরু হয় ৩০ জানুয়ারি ২০২০। প্রথম কাজটি করি বাণী অর্চনা দিয়ে। এই কথাটি বেছে নেওয়ার কারণ ছিল, স্কুলে সরস্বতী পূজা আয়োজনের দায়িত্ব ছিল আমাদের উপর, আমরা যারা একটু সিনিয়র ছিলাম। একবার স্যার বললেন, পূজার গেটে বাণী অর্চনা কথাটি একটু সুন্দর করে লিখে ব্যানারে ঝুলাতে হবে।
আর বরাবরের মতো আমার উপরই দায়িত্ব পড়ল! আঁকাআঁকিতে আমার কিঞ্চিত হাত ছিল – স্কুলে এই কথা সবাই জানতো। সেই শুরু থেকে আজও খুঁজে ফিরি নতুন কিছু।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চারুকলার গ্রাফিক ডিজাইনে পড়ার কারণে টাইপোগ্রাফির নেশা দিন দিন আরও বাড়ে। বর্তমানে কর্মক্ষেত্রের একটা বিশাল দায়িত্ব রয়েছে আমার উপর। পেশাগত কারণে আমাকে প্রচুর টাইপোগ্রাফি করতে হয় – নতুন ফন্ট তৈরি করা, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাম্পেইন, পোস্টার ডিজাইন, স্লোগান ইত্যাদির টাইপোগ্রাফি করে সময় কাটছে।
এর মাঝেই ভাবছিলাম নতুন কী করা যায়। তাই নতুন কিছু করার ভাবনা থেকেই ‘৩৬৫ দিন টাইপোগ্রাফি’ চ্যালেঞ্জ হাতে নেই। আমার চ্যালেঞ্জটা মূলত আমার নিজের সাথেই। আমার মনে হয় প্রতিটা মানুষের প্রতিদ্বন্দ্বী মূলত সে নিজেই।
আমার টাইপোগ্রাফির বিষয় হিসেবে আমি বেছে নিয়েছি সামসময়িক ঘটনা, বিখ্যাত ব্যক্তিদের জন্ম-মৃত্যু দিবসে স্মরণ করা, সমাজ বা দেশের বিভিন্ন অসঙ্গতি বা সাফল্য তুলে ধরা। পাশাপাশি, কোনো একটি বিষয় নিয়ে যখনই মনে হয়েছে এটা নিয়ে কাজ করা যায়, আমি আমার কাজের মাধ্যমে তখনই তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছি। আমার কাজের প্রকাশের মাধ্যম হিসেবে বেছে নিয়েছি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ফেসবুক’কে।
আমার এই কাজ মানুষের মনে কতটা প্রভাব ফেলেছে বা ফেলবে আমি জানি না, তবে আমি চেষ্টা করেছি একজন শিল্পী হিসেবে, শিল্পের জায়গা থেকে। হয়তো মহাকালের অসীমের পথে রয়ে যাবে তুলির একটি আঁচড় হিসেবে। আপনাদের আশীর্বাদ নিয়ে আমি যেতে চাই আরও দূর, বহু দূর। সবাইকে ধন্যবাদ।



