দেশবাংলা

ফলন ভালো হলেও, ভালো নেই পিরোজপুরের পান চাষীরা

পিরোজপুর সদর উপজেলায় কদমতলা ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য পান। এবছর পানের চাষ ভালো হলেও অতিরিক্ত শীত কুয়াশা ও বৃষ্টির কারনে পান হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়ে। আবার বিভিন্ন পোকার আক্রমনে পানের লতা শুকিয়ে মারাও যাচ্ছে।

কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়ে আর্থিক সহযোগীতার আশা করছেন সরকারের কাছে। তবে প্রশিক্ষন ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগীতা দিয়ে পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।

পিরোজপুর সদর উপজেলায় ৮৪ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে, এর মধ্য পিরোজপুরের সদর উপজেলায় একটি ইউনিয়ন কদমতলা। এই ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী পণ্য পান। এবছর পানের চাষ ভালো হলেও অতিরিক্ত শীত কুয়াশা ও বৃষ্টির কারনে পান হলুদ হয়ে ঝড়ে পড়ে। আবার বিভিন্ন পোকার আক্রমনে পানের লতা শুকিয়ে মারাও যাচ্ছে, সারা বছর পান চাষ করে এই সময়ে কিছুটা লাভ হয় পান বিক্রি করে।

কিন্তু এ বছর অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশায় পানের বরজের লতা থেকে পান পাতা হলুদ হয়ে ঝরে যাচ্ছে, আবার ইদানীং পছলা পোকাসহ বিভিন্ন পোকার আক্রমণে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে পান।

চাষিরা জানান, অতিরিক্ত শীত ও কুয়াশায় আমাদের অনেক ক্ষতি হয়েছে। তারপর আবার কয়েকদিন আগে বৃষ্টি হয়েছে তাতেও অনেক পান ঝড়ে পড়ে গেছে। বর্তমানে পানের বাজার মূল্য পোন (পানের একক) প্রতি ১৫০-২০০ টাকা থাকলেও ঝরা পান বিক্রি হচ্ছে প্রতি পোন ৪০-৫০ টাকা দামে। পান গাছ লাগানোর ছয় মাসের পর থেকেই ফলন পাওয়া যায়। আর একবার লাগানো গাছ থেকে প্রায় ১৫-২০ বছর অনায়াসে সংগ্রহ করা যায় পান পাতা।

ধানসহ অন্যান্য ফসলের তুলনায় পান চাষে লাভের পরিমাণ অনেক বেশি। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় পানের ফলন ভালো হয়েছে। কয়েকদিন ধরে প্রতিটি লতার পান হলুদ হয়ে মাটিতে পড়ে যাচ্ছে। তাছারা গত নভেম্বর মাসের হঠাৎ বৃষ্টিতেও পানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তাই ক্ষতি পোষাতে ব্যাংক ঋণসহ সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন পান চাষিরা।

পিরোজপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক চিন্ময় রায় জাজান, পিরোজপুর জেলাটি ৭টি উপজেলা নিয়ে গঠিত। আমাদের এখানে পান চাষটা হয়ে থাকে এবং পানটা এখানকার একটি অর্থকরী ফসল। বারোজীবি সম্প্রদায়ের লোক অতিত থেকে পান চাষ করেই তাদে জীবন জীবিকা নির্বাহ করে আসছে।

পিরোজপুর সদরে ৮৪ হেক্টর, ইন্দুরকানীতে ১৮ হেক্টর, কাউখালীতে ১০৭ হেক্টর, নেছারাবাদে ১৯৫ হেক্টর, নাজিরপুরে ১৫ হেক্টর, ভান্ডারিয়া ২৩৫ হেক্টর ও মঠবাড়িয়া ৪৫ হেক্টরসহ মোট ৬৯৭ হেক্টর জমিতে পানের চাষ হয়। এখানে পানের ফলন হেক্টর প্রতি রেকর্ডে আছে ১২.৭৩ মেট্রিকটন। সে হিসেবে আমাদের এখানে গড় প্রায় ৮ হাজার ৮৭৩ মেট্রিকটন পান উৎপাদন হয়।

শীতে পানে শৈত প্রবাহের পানের পাতা হলুদ হয়ে যায়। পানের খাদ্য উৎপাদন ক্ষমতা কমে যায়। কৃষি বিভাগ থেকে কৃষকদের পরামর্শ দেয়া হয়েছে যাতে তারা এই সময় তাদের পানের বড়জটা সাদা পাতলা পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখে রাতের বেলা আবার দিনের বেলা সূর্যের আলোর জন্য খুলে দেয়া যায়। এটা হলে শৈত প্রবাহ থেকে পান রক্ষা পাবে।

ইমাম হোসেন, পিরোজপুর প্রতিনিধি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button