বাংলাদেশপ্রধানমন্ত্রী

ভ্যাকসিন নিয়ে কারও কথায় কান দিলে চলবে না: প্রধানমন্ত্রী

করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন নিয়ে কারও কোনো কথায় কান না দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন, আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, একটি জাতির জন্য ১২ বছর কিছু না। কিন্তু তারপরও আমরা যেভাবে এই দেশের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, পথ দেখিয়ে যাচ্ছি-যদি এই পথ ধরেই এগুনো যায় তাহলে এদেশ অবশ্যই উন্নত-সমৃদ্ধ হবে।

বুধবার দুপুরে আওয়ামী লীগের সহযোগী সংগঠন যুবলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান। কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এ আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হন।

এসময় শেখ হাসিনা বলেন, জিয়াউর রহমানের কথা বলি, এরশাদের কথা বলি, খালেদা জিয়ার কথা বলি; যারাই ক্ষমতায় এসেছে তারাই নিজেদের ভাগ্য নিয়েই ব্যস্ত ছিল। ব্যস্ত ছিল অর্থ সম্পদ নিয়ে। মানুষের জন্য তারা কিছু করেনি। করলে যে করা যায়, সেটা আমরাই প্রমাণ করেছি।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, সেই সময় থেকে আমরা দেশের মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। দুর্যোগ আসে, দুর্যোগ আসবে। কিন্তু সেই দুর্যোগের সময় আমাদের শক্ত থাকতে হবে। মানুষের পাশে থাকতে হবে। পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে, কাজ করতে হবে। তবেই যেকোনো দুর্যোগ মোকাবিলা করা যাবে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এজন্য দেশের মানুষকে ধন্যবাদ জানিয়ে যুবলীগের করোনাকালীন সময়ে বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের ভুয়সী প্রশংসা করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আমরা দেখেছি করোনার সময় কেউ অসুস্থ হলে, বাবা-মা অসুস্থ হলে নিজের সন্তানও পাশে দাঁড়ায়নি। কিন্তু আমাদের যুবলীগের কর্মীরা তাদের পাশে গেছে। হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা সেবার ব্যবস্থা তারা করেছে। মৃতদের দাফন এবং সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। ঘরে ঘরে খাদ্য সামগ্রী এবং ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছে।

কৃষদের আমন ধান কাটা, বন্যা দুর্গত, আম্পানে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানো থেকে শুরু করে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালনসহ শীতার্ত মানুষের মধ্যে শীতবস্ত্র বিতরণসহ বিভিন্ন ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের কথা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। এজন্য তিনি যুবলীগের নেতাকর্মীদের অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘তারা মানবতার জন্য এই কাজগুলো যে করেছে, এটাই হচ্ছে সব থেকে বড়। মানুষের পাশে দাঁড়ানো, মানুষকে সাহায্য করে, এটাই সব থেকে বেশি প্রয়োজন।

শেখ হাসিনা বলেন, করোনা ভাইরাসের টিকা দেওয়া শুরু হয়ে গেছে। এ নিয়ে অনেকের অনেক কথা শুনতে হয়। কোনো দিকে কান দিলে চলবে না। মানুষের ভয়টা দূর করতে হবে। ইতোমধ্যেই টিকা দেওয়া আমরা শুরু করেছি, ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। অনেক কথা তো শুনতে হয়, এসব কথায় কান দিলে চলবে না। অনেকেই তো বলেছে বাংলাদেশে ভ্যাকসিন আসবে না। অনেক উন্নত দেশও কিন্তু ভ্যাকসিন পায়নি। আমি কিন্তু কোনো দিকে তাকাইনি।

আমার কাছে মানুষ সব থেকে বড়, মানুষের জীবন বড়। আমরা প্রথম ভ্যাকসিনের জন্য টাকা দিই, এক হাজার কোটি টাকা আলাদা রেখে। আমরা সঙ্গে সঙ্গে অ্যাডভান্স করে দিয়েছিলাম যখনই উৎপাদন হবে, বিশেষজ্ঞরা অনুমোদন দেবে তখনই যেন বাংলাদেশ পায় এবং সেটাই আজ প্রমাণীত সত্য। আমি ভারতকে ধন্যবাদ জানাই তারা আমাদের ২০ লাখ ডোজ ভ্যাকসিন উপহার দিয়েছে। এখন অনেকেই দিতে চাচ্ছেন, কিন্তু আমাদের যেটা প্রয়োজন সেটা আমরা নিয়ে এসেছি।

মানুষের মাঝে প্রথম দিকে দ্বিধা ছিল এখন সে দ্বিধাটা নেই। তারপরও যুবলীগের একটা দায়িত্ব আছে। আমরা বলেছি, বিশেষ করে ৪০ বছরের উপরে যারা শিক্ষক, চিকিৎসক অন্যান্য যারা সব সময় মানুষের পাশে কাজ করতে হয় তাদের আগে দিতে হবে। সব সময় মানুষের মাঝে ভয়টা দূর করতে হবে, সবাই যেন ভ্যাকসিন নেয় সে ব্যবস্থা করে মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। তবে এই ভ্যাকসিনটা নেওয়ার পর কিন্তু মাস্ক খোলা যাবে না। মাস্ক পরতে হবে, স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে চলতে হবে। টিকা নেওয়ার পরও কিন্তু মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, হাত পরিষ্কার করতে হবে, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকতে হবে, স্বাস্থ্য বিধি মানতে হবে।

সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০৪১ সাল পর্যন্ত দেশ কেমন হবে তার পরিকল্পনা আমরা প্রণয়ন করেছি। আগামী একশ অর্থাৎ দুই হাজার একশ বছরে বাংলাদেশ কেমন হবে তার জন্য ডেল্টা প্ল্যান করেছি। অনেক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা গণতন্ত্র ফিরিয়ে এনেছি। এজন্য অনেক পথ পাড়ি দিতে হয়েছে। বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর ২১ বছর যারা ক্ষমতায় ছিল তারা দেশের মানুষের কোনো কল্যাণ করেনি। শুধু নিজেদের কল্যাণ করেছে। আমি জিয়াউর রহমান, এরশাদ, খালেদা জিয়ার কথা বলছি, এরা কেউই মানুষের জন্য কিছু করেনি। নিজেদের ভাগ্য নিয়েই ব্যস্ত ছিল।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আমি যুবলীগ নেতাকর্মীদের বলতে চাই, মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। মানুষের সাহায্যে কাজ করে গেলে সেই সংগঠন টিকে থাকে। আদর্শভিত্তিক সংগঠন গড়ে তুলতে হবে। তিনি বলেন, আমরা মুজিববর্ষের কর্মসূচি পালন করছি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মানুষের ঘর করে দিচ্ছি। মুজিববর্ষে কেউ গৃহহীন থাকবে না। ২৬ মার্চ থেকে আমরা স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীতে প্রবেশ করবো। ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত আমরা নির্দিষ্ট করেছি স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতার জন্মশত বার্ষিকী উদযাপন করবো। যেহেতু করোনা ভাইরাসের কারণে আমরা কর্মসূচি পরিবর্তন করেছি সেখানে আমরা জনসমাগম বাদ দিয়ে মানুষের কল্যাণমুখী কাজ করবো।

যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন, যুবলীগের সাবেক চেয়ারম্যান শিল্পমন্ত্রী নুরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন, আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মির্জা আজম প্রমুখ, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হারুনর রশীদ। আলাচনা সভা পরিচালনা করে যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক মাঈনুল হোসেন খান নিখিল।

এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মহানগর যুবলীগ দক্ষিণের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাইনউদ্দিন রানা ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পা।

বুলবুল আহমেদ, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button