বাংলাদেশঅন্যান্য

ভালোবাসার শক্তিতে প্রতিবন্ধকতাকে জয়

বিশ্ব ভালোবাসা দিবস ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ আজ। শুধু তরুণ-তরুণী নয়, নানা বয়সের নানা মানুষের ভালোবাসার বহুমাত্রিক রূপ প্রকাশের আনুষ্ঠানিক দিন আজ। এ ভালোবাসা যেমন মা-বাবার প্রতি সন্তানের, তেমনি মানুষে-মানুষে ভালোবাসাবাসির দিনও এটি। অনেকে আবার সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে ভালোবেসে অসাধ্যকে সাধন করেছেন নিজদের যোগ্যতায়।

সকাল থেকে সংসারের সব কাজ একাই করেন জান্নতুল ফেরদৌস সুমি। ঘর-দোর গোছানো ও  পরিষ্কারসহ সংসারের সব কাজ। স্বামী রাজিবুল কবির গালিব, এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে সুমির সুখের সংসার। সব কিছুই চলছে একেবারেই স্বাভাবিক। স্বামী সন্তানদের বাড়ি ফেরার সময় ঠিক মনে রাখেন তিনি।

এতো কিছু স্বাভাবিক দেখে কারোই বোঝার উপায় নেই সুমি-গালিব দম্পতির দু’জনই বাক-শ্রবণ প্রতিবন্ধী। জন্ম থেকেই তারা কথা বলতে বা শুনতে পারেন না! তারপরও স্বর্গীয় ভালোবাসার বন্ধনে সংসার জীবনে তারা পার করেছেন দীর্ঘ এক যুগ। ভালোবাসার একবিন্দু যেন কমতি নেই তাদের মাঝে।

একটি বেসরকারি স্কুলের অঙ্কন শিক্ষক গালিব।  সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত সেখানেই ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। বাকি সময়টা কেবলই স্ত্রী-সন্তানদের জন্য। আর, সকাল-দুপুর-রাত পুরোটাই স্বামী-সন্তানদের পেছনে ব্যয় করেন সুমি। কিন্তু এ সুখের পেছনের গল্পটা বেশ বেদনাদায়ক! সে সময়ের কথা বলতে গিয়ে এখনও কণ্ঠ জড়িয়ে আসে সুমির মা-বাবার।  জানালেন, সন্তানের কথা বলতে না পারা নিয়ে নিজেদের কষ্টানুভূতির কথা। তবে, মেয়েকে ভালো থাকতে দেখে এখন অনেকটাই স্বস্তিতে তারা।

এই দম্পতির বোঝাপড়ায় রীতিমত মুগ্ধ বাড়ির লোকজন। ছেলে বা ছেলের বউ কথা বলতে পারেন না- এ নিয়ে যেন বিন্দুমাত্র আফসোস নেই সুমির শ্বশুর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলীর। প্রতিবন্ধী বাবা-মাকে কিছুটা আক্ষেপ থাকলেও, কোনো দুঃখ নেই সুমি-গালিব দম্পতির সন্তানদের মাঝেও।

বছরের একটিমাত্র দিন ভালোবাসা দিবস হিসেবে পালিত হলেও, সুমি-গালিবের ভালোবাসা যেন বছরের প্রতিটি দিনের প্রতি ক্ষণের। এমন ঐশ্বরিক ভালোবাসায় পরাভূত হোক সকল ঘৃণা ও পঙ্কিলতা-আজকের দিনে এমনটাই হোক সবার প্রত্যাশা।

বুলবুল আহমেদ, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button