বাংলাদেশজনদুর্ভোগ

একের পর এক বন্ধ হচ্ছে দেশের চিনিকলগুলো

একের পর এক বন্ধ হচ্ছে দেশের চিনিকলগুলো। কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশে আখের ভালো জাত না থাকায় বাধ্য হয়েই চিনিকল বন্ধের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে সরকার। তবে তা প্রত্যাখান ক’রে কৃষিবিদরা বলছেন, দেশে বেশ ক’টি ভালো আখের জাত রয়েছে! বস্তুত, কর্পোরেশনের অব্যবস্থাপনা আর উদাসীনতার কারণেই চিনিকলগুলো ডুবছে।

দৈনন্দিন জীবনের খাদ্য তালিকার অপরিহার্য একটি উপাদান চিনি। চা থেকে শুরু করে অনেক খাবার প্রস্তুতে ব্যবহার হওয়ায়, দিন দিন প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে এই পণ্যটির।

প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় যে শর্করা জাতীয় খাবার থাকে, তাতে বিদ্যমান চিনিগুলো আমাদের দেহে গ্লুকোজে রূপান্তরিত হয়। পরে তা দেহে শক্তি উৎপাদন করে। প্রয়োজনের তুলনায় বেশি চিনি গ্রহণ করলে দেহের জন্য তা ক্ষতির কারণও হয়ে দাঁড়ায়।

বর্তমানে দেশে মোট চিনির চাহিদা ১৮ লাখ টন।  যার ১৭ লাখ টনই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। আর দেশের চিনিকল থেকে উৎপাদিত হয় মাত্র ৭০ থেকে ৮০ হাজার টন। ঝরঝরে মিহি দানার চিনির বদলে দেশে উৎপাদিত মোটা দানার বাদামী চিনিই শরীরের জন্য ভালো বলেও মত বিশেষজ্ঞদের।  তাই ক্রেতাদের চাহিদা থাকলেও, পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় তারা পাচ্ছেন না দেশে উৎপাদিত এই বাদামি চিনি।

দেশীয় চিনির ব্যাপক চাহিদা থাকার পরও কেন উৎপাদন বাড়ছে না- এমন প্রশ্নে চিনি ও খাদ্যশিল্প কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান জানান, নানা সীমাবদ্ধতার কথা।  দেশে আখের উন্নত জাত না থাকাও একটা বড় কারণ বলেও জানান তিনি।

তবে দেশে আখের ভাল জাত নেই- এমন তথ্য মানতে নারাজ শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কৃষিবিদ ড. সেকেন্দার আলী।  তার মতে, ভালো জাত থাকার পরও অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন প্রক্রিয়া। দেশীয় চিনিশিল্পকে বাঁচাতে বেশকিছু পরামর্শও দেন এই কৃষিবিদ।

বুলবুল আহমেদ, বাংলা টিভি

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button