অর্থনীতিদেশবাংলাবানিজ্য সংবাদ

রাজশাহীর তানোরে ঘানি ভাঙ্গা খাঁটি সরিষার তেলের চাহিদা বিশ্বজুড়ে

কলুর ঘাড়ে ঘানি। চোখের ওপর মোটা কাপড়ের পর্দা দেয়া। চলছে কলুর বলদ। কাঠের তৈরি ঘানিটা ঘুরছে,আর সরিষা পিষে তা থেকে মাটির পাত্রে জমা হচ্ছে তেল। খাঁটি সরিষার তেলের ঝাঁঝালো গন্ধ চারিদিকে। কাঠের ঘানিতে সরিষার তেল তৈরির গ্রাম বাংলার এমন ঐতিহ্য ধরে রেখেছে,রাজশাহীর তানোর পৌরশহরের হরিদেবপুর এলাকার, দাউদ হোসেন।

রাজশাহীর তানোর উপজেলার পৌরশহরের হরিদেবপুর এলাকার দাউদ হোসেন।প্রায় ৩৫ বছর আগে সামান্য টাকা আর হালের একটি বলদ দিয়ে শুরু করেন,ঘানিতে সরিষা পিষে তেল তৈরির কাজ। সংসারের হাল ফেরানোর পাশাপাশি,মানুষকে ভালো খাওয়ানোর প্রতিশ্রুতি নিয়ে কাজ শুরু করেন তিনি।

এক সময় কাঠের ঘানির সাহায্যে ফোঁটায় ফোঁটায় নিংড়ানো খাঁটি সরিষার তেল, বিভিন্ন গ্রামগঞ্জের হাটবাজারে বিক্রি হতো। এই তেল বিক্রি করেই জীবিকা নির্বাহ করতেন কুলু সম্প্রদায়ের মানুষ। তবে তানোরে দাউদের কাঠের ঘানিতে তৈরি হওয়া খাঁটি সরিষার তেলের চাহিদা রয়েছে বিশ্বজুড়ে। শুধু এলাকার মানুষই নয়,বিভিন্ন জেলা থেকেও ক্রেতারা এসে তেল নিয়ে যাচ্ছেন।যাচ্ছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে। খাঁটি সরিষার তেল পেয়ে খুশি ক্রেতারা।

প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তেল তৈরিতে সময়, শ্রম ও খরচ অনেক বেশি প্রয়োজন হয়। শক্তিশালী গরুর খাবার জোগাতেও অনেক খরচ হয়। ৫ কেজি সরিষা থেকে প্রায় আড়াই কেজি তেল তৈরি হয় বলে জানান,ঘানির মালিক ।

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ ঐতিহ্য ঘানি ভাঙা সরিষার তেলের এমন ঐতিহ্য ধরে রাখতে, জনতা ব্যাংক তানোর শাখার পক্ষ থেকে ঋণ দানসহ, বিভিন্ন সহযোগিতার আশ্বাস দেন,ব্যাংক কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার।

গ্রামীণ এ পদ্ধতিতে ভাঙ্গানো তেল ২৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়। তবে দাম বেশি হলেও, প্রায় দুষ্প্রাপ্য এই ঘানি তেলের চাহিদা ব্যাপক। তানোরে বর্তমানে একটি মাত্র এ কাঠের ঘানি থাকায় অনেকেই দেখতে আসেন এবং তেল কিনে নিয়ে যায়।

ডেস্ক রিপোর্ট/বাংলা টিভি/ এস

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button