ভূমিকম্পে লন্ডভন্ড তুরস্ক-সিরিয়া, ২ হাজার ছাড়িয়েছে মৃত্যু

দীর্ঘক্ষণ স্থায়ী শক্তিশালী ভুমিকম্পে লন্ডভন্ড তুরস্ক ও সিরিয়ায় প্রাণহানির সংখ্যা দুই হাজার ছাড়িয়েছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে হাজার হাজার মানুষ আটকা পড়ায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করেছে, দেশ দুটির কর্তৃপক্ষ। পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে আজ ভোরে আঘাত হানে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এই বিধ্বংসী ভুমিকম্প, যা দফা দফায় স্থায়ী ছিলো টানা ৪৫ সেকেন্ড। একারণেই এতো বেশি বিপর্যয় হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
ভুমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার পক্ষ থেকে আন্তর্জাতিক সহায়তা চাওয়া হয়েছে। ব্যাপক হতাহতের ঘটনায় বিশ্বজুড়েই শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তে ভোরের আলো ফোটার আগে ঘুমন্ত জনপদে আঘাত হানে শক্তিশালী ভূমিকম্প। অতর্কিত এ প্রাকৃতিক দুর্যোগে নিমেষেই তছনছ হয়ে যায় বহু ভবন-স্থাপনা। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে তুরস্কে, সিরিয়ার অংশেও ধ্বংসযজ্ঞ কম নয়। কিছু বুঝে ওঠায় আগেই হারিয়ে যায় হাজারো প্রাণ।
বিভিন্ন ফুটেজে দেখা যায়, ৭ দশমিক ৮ মাত্রার এ ভুমিকম্পের স্থায়ীত্বকাল ছিলো অন্তত ৪৫ সেকেন্ড। বাড়িঘরসহ বিভিন্ন ভবন প্রচন্ড ঝাঁকুনিতে মুহুর্তেই গুড়িয়ে পড়ে মাটিতে।
ধ্বংস্তুপের নিচে চাপা পড়া হতাহতদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিসসহ বিভিন্ন বাহিনী একযোগে কাজ করছে। এতো বিপুল পরিমান ধ্বংসস্তুপে উদ্ধার তৎপরতা চালাতেও বেগ পেতে হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস’এর তথ্যমতে, তুরস্ক-সিরিয়া সীমান্ত এলাকায় গাজিয়ানতেপ শহরের কাছে ছিলো ভুমিকম্পের কেন্দ্রস্থল। ভূমিকম্পটির প্রথম আঘাত ছিলো ৭ দশমিক ৮ এবং দ্বিতীয়টি ছিলো ৬ দশমিক ৭ মাত্রার। ভূমিকম্পের আফটার শক আবারও আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিভিন্ন সংস্থা।
৮ দশকের মধ্যে সবচেয়ে এ অঞ্চলে শক্তিশালী এই ভূমিকম্পে তুরস্ক ও সিরিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকাগুলো যেন এখন হাজারো লাশের জনপদে পরিণত হয়েছে। আর আহতদের সংখ্যা অগণিত। তাদেরকে যথাযথ চিকিৎসা দেয়াও দুরুহ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় উদ্ধার তৎপরতা এবং চিকিৎসার জন্য আন্তর্জাতিক সহায়তার আহবান জানিয়েছে দেশদুটির সরকার।
ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত তুরস্ক-সিরিয়ার পাশে দাঁড়ানোর আহবান জানিয়েছেন বিশ্বনেতারাও।
স্থানীয়রা বলছেন, তুরস্কে স্মরণকালে মধ্যে এমন বিধ্বংসী বড় ভূমিকম্পের ইতিহাস ছিলো ৮৪ বছর আগে ১৯৩৯ সালে। সেসময় এ জনপদে ৩০ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটেছিলো।



