জবিতে ‘কমপ্লিট শাটডাউনে’ অনশনরতরা

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের নির্মাণকাজ সেনাবাহিনীকে হস্তান্তরসহ তিন দাবিতে অনশনে বসা শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি শুরু করেছেন।
টানা ২৪ ঘণ্টা অনশনের পর সোমবার সকালে তারা বিশ্ববদ্যালয়ের মূল ফটক ও সাজিদ অ্যাকাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দিয়েছেন।
ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা গেছে, প্রধান ফটকের ‘পকেট গেইট’ খোলা থাকলেও মূল অংশ বন্ধ থাকায় শিক্ষক-শিক্ষার্থী বহনকারী যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা নিজেদের বিভাগে তালা দিয়েছেন।
এর মধ্যে রয়েছে- গণিত বিভাগ, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগ, সমাজকর্ম বিভাগ, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, রসায়ন বিভাগ, কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগ, মার্কেটিং বিভাগ, ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ, অ্যাকাউন্টটিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগ, ইতিহাস বিভাগ, শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট বিভাগ, ফার্মেসি বিভাগ, ভূমি ব্যবস্থাপনা ও আইন বিভাগ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, বাংলা বিভাগ।
আন্দোলনকারীদের একজন পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ১৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা বলেন, “আমাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোনো ক্লাস-পরীক্ষা চলবে না। আমরা গত রাতেই কমপ্লিট শাটডাউন ঘোষণা করেছি।”
শিক্ষার্থীদের অন্য দুই দাবির মধ্যে রয়েছে- পুরান ঢাকার বাণী ভবন ও ড. হাবিবুর রহমান হলের স্টিল বেইজড ভবনের কাজ দ্রুত শুরু ও শেষ করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত আবাসনের ব্যবস্থা না হয়, ততদিন পর্যন্ত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর আবাসন ভাতা নিশ্চিত করতে হবে।
নিজেদের দাবি আদায়ে রোববার সকাল সাড়ে ৮টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনশন শুরু করেন তিন শিক্ষার্থী, যে কর্মসূচিতে দুপুরের দিকে আন্দোলনকারীর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৫-৪০ জনে।
বিকালে শিক্ষক সমিতির অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে তা প্রত্যাখান করেন শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে সন্ধ্যায় শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ‘একাত্মতা’ পোষণ করে অনশনে যোগ দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক রেজাউল করিম। তার সঙ্গে যোগ দেন প্রক্টর, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রকল্যাণ পরিচালকসহ কয়েকজন শিক্ষক।
পরে তারা অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করেন, এরপর উপাচার্যসহ শিক্ষকরা চলে যান।
পরে রাতে আন্দোলনকারীদের ১৪ জন অসুস্থ হয়ে পড়েন, যাদেরকে বিভিন্ন হাসপাতালে দেখতে যান উপাচার্য রেজাউল করিম। তখন তিনি অনশন ভাঙার অনুরোধ করলে ফের তা নাকচ করেন শিক্ষার্থীরা। এরপর গভীররাতে সংহতি জানাতে অনশনস্থলে আসেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের অর্ধশতাধিক ছাত্রী। এরপর সকালে শিক্ষার্থীরা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচিতে নেমেছেন



