নারায়ণগঞ্জ সরকারি হাসপাতালে সাপ্তাহিক ক্লিনিং ডে উদ্বোধন

শুধু উদ্বোধন বা ফটোসেশনে সীমাবদ্ধ থাকেননি নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। মঙ্গলবার (১১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর নিজেই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজে অংশ নেন তিনি।
কর্মসূচির শুরুতেই হাতে গ্লাভস পরে, মাথায় কর্মসূচির প্রতীকী ক্যাপ লাগিয়ে জেলা প্রশাসক হাসপাতালে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা বর্জ্য পরিষ্কার করতে নামেন। তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ড, করিডোর ও আঙিনা থেকে ব্যবহৃত ইনজেকশনের সিরিঞ্জ, প্লাস্টিক বর্জ্য, ডাবের খোসা পর্যন্ত তুলে নির্দিষ্ট ডাস্টবিনে ফেলেন।
ডিসির এমন সক্রিয় অংশগ্রহণে উপস্থিত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্বাস্থ্যকর্মীরা বিস্মিত হন।
সাধারণত এ ধরনের কর্মসূচিতে অতিথিরা উদ্বোধনের পর প্রতীকী পরিচ্ছন্নতা শেষে ফটোসেশনে অংশ নেন; তবে জেলা প্রশাসক সেই প্রচলন ভেঙে নিজেই কাজ শুরু করেন।
এর আগে ‘গ্রিন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ’ উদ্যোগের আওতায় ভিক্টোরিয়া হাসপাতালে সাপ্তাহিক ‘ক্লিনিং ডে’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
এই কর্মসূচির আওতায় নারায়ণগঞ্জ জেলার প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালে সপ্তাহে একদিন করে ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হবে। ধাপে ধাপে জেলার সব সরকারি হাসপাতালেও এ উদ্যোগ চালু হবে।
জেলা প্রশাসক বলেন,“আমরা সরকারি হাসপাতালগুলোকে মানুষের আস্থার জায়গায় ফিরিয়ে আনতে চাই। অসহায় মুহূর্তে মানুষের একমাত্র ভরসা সরকারি হাসপাতাল। তাই এগুলোকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখা জরুরি।”
তিনি আরও বলেন,“পরিবর্তন আমাদের নিজেদের থেকেই আনতে হবে। কারণ নোংরা আমরাই করি। তাই দোষারোপ না করে নিজেরাই পরিবর্তনের সূচনা করতে হবে। জেলার সব উপজেলা হাসপাতাল ও সরকারি অফিসে নিয়মিত ‘ক্লিনিং ডে’ পালন করা হবে, যাতে মানুষ আবার সরকারি প্রতিষ্ঠানের ওপর আস্থা ফিরে পায়।”
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন বলেন,“পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা শুধুই আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়। নিয়মিতভাবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখলে স্বাস্থ্য সুরক্ষাও নিশ্চিত হয়।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. এ এফ এম মুশিউর রহমান।
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নাঈমা ইসলাম, ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মো. জহিরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের বিভিন্ন স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী।
এমআর



