Uncategorized

রাজধানীতে সেনাবাহিনীর অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র-গোলাবারুদ উদ্ধার

রাজধানীর মিরপুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একটি বিশেষ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) ভোরে মিরপুরের পল্লবী থানা এলাকায় এই অভিযানটি পরিচালিত হয়।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, গোপন গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী জানতে পারে যে, পল্লবী থানাধীন পুরান সিটি মার্কেট (আলুপট্টি) এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবনে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ‘বোমা কাল্লু’ এবং ‘লেংড়া রুবেল’ তাদের সহযোগীদের নিয়ে নাশকতার পরিকল্পনা করছে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা ভবনের পেছনের গেট দিয়ে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ভবনটি অত্যন্ত বড় এবং যাতায়াতের সুগম রাস্তা না থাকায় তাদের তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে তাদের গ্রেপ্তারে চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

তদন্তে জানা গেছে, ওই পরিত্যক্ত ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের আস্তানা হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, মাঝে মাঝেই ওই ভবন থেকে ককটেল বিস্ফোরণের শব্দ পাওয়া যেত। এমনকি ইতিপূর্বে সেখান থেকে মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছিল। মূলত ভবনটি সন্ত্রাসীদের ‘টর্চার সেল’ হিসেবেও ব্যবহৃত হতো।

অভিযান শেষে ওই আস্তানা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে ৩টি রিভলভার এবং ০১টি রিভলভার কভার, ৭৩ রাউন্ড তাজা গুলি, ১টি চাপাতি, ২টি ছুরি, ৩০ গ্রাম গান পাউডার, ককটেল তৈরির সরঞ্জাম ও ১টি বিস্ফোরিত ইম্প্রোভাইজড ককটেল।

গোয়েন্দা সূত্রে আরোও জানা গেছে, আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টির উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ প্রাণঘাতী অস্ত্র মজুদ করা হয়েছিল। সন্ত্রাসী ‘বোমা কাল্লু’ মোহাম্মদপুর জেনেভা ক্যাম্পের অপরাধীদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে এবং ‘লেংড়া রুবেল’ আলুপট্টি সংলগ্ন বিহারি ক্যাম্পে নিজের আধিপত্য বজায় রেখে আসছিল।

বর্তমানে উদ্ধারকৃত মালামালসমূহ সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং পলাতক সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে পল্লবী থানার সহযোগিতায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা বিধানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা সজাগ ও দৃঢ় প্রতিজ্ঞ বলে জানানো হয়েছে।

এমআর

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button