আন্তর্জাতিক

এপস্টাইনের সঙ্গে কাটানো প্রতি মুহূর্তের জন্য ক্ষমা চাইল বিল গেটস

জেফরি এপস্টাইনকাণ্ডের কালো ছায়া যেন কিছুতেই পিছু ছাড়ছে না মাইক্রোসফটের সহ-প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটসের। সম্প্রতি মার্কিন বিচার বিভাগ এপস্টাইন সংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ গোপন নথি ও ইমেইল প্রকাশ করার পর এই বিতর্ক নতুন করে তুঙ্গে উঠেছে।

এই পরিস্থিতিতে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করতে মুখ খুলেছেন বিল গেটস। অস্ট্রেলিয়ার নাইন নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি অত্যন্ত অনুতপ্ত হয়ে জানান, কুখ্যাত এই অপরাধীর সঙ্গে কাটানো প্রতিটি মুহূর্তের জন্য তিনি লজ্জিত এবং ক্ষমাপ্রার্থী।

প্রকাশিত নথিতে দাবি করা হয়েছে, বিল গেটস এক রুশ তরুণীর সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছিলেন এবং এপস্টাইন সেই তথ্যকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করেছিলেন। তবে এই অভিযোগকে পুরোপুরি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উড়িয়ে দিয়েছেন গেটস। তাঁর মতে, এপস্টাইন তাঁকে ব্ল্যাকমেইল করার বা সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করার চেষ্টা থেকেই হয়তো এমন ইমেইল লিখেছিলেন।

গেটস আরও দাবি করেন, ২০১১ সালের দিকে এপস্টাইনের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়েছিল স্রেফ দাতব্য কাজের উদ্দেশ্যে। মূলত বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে বড় তহবিল সংগ্রহের প্রলোভন দেখিয়ে এপস্টাইন তাঁকে কাছে টেনেছিলেন, যা এখন গেটসের কাছে জীবনের অন্যতম বড় ভুল বলে মনে হয়।

এদিকে, বিল গেটসের সাবেক স্ত্রী মেলিন্ডা ফ্রেঞ্চ এই পুরো বিষয়টিকে তাঁর জীবনের অত্যন্ত একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ২০২১ সালে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের পেছনে এপস্টাইন ইস্যুটির বড় ভূমিকা ছিল বলে মনে করা হয়। মেলিন্ডা জানান, এই নথিপত্রগুলো সামনে আসায় তাঁর পুরনো ক্ষত আবার সতেজ হয়েছে। তিনি মনে করেন, এপস্টাইনের সঙ্গে গেটসের সম্পর্কের গভীরতা নিয়ে এখনো অনেক রহস্য রয়ে গেছে, যার উত্তর কেবল বিল গেটস এবং তাঁর সংশ্লিষ্টরাই দিতে পারবেন।

উল্লেখ্য, জেফরি এপস্টাইন ২০১৯ সালে কারাগারে থাকাকালীন মারা গেলেও তাঁর বিশাল যোগাযোগ নেটওয়ার্কের তথ্য বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অস্বস্তিতে ফেলেছে। বিল গেটস বারবার এই সম্পর্ককে ‘সামান্য পরিচয়’ হিসেবে তুলে ধরলেও নতুন নথিপত্র এবং তাঁর সাবেক স্ত্রীর মন্তব্য সেই দাবিকে বারবার প্রশ্নের মুখে দাঁড় করাচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button