বাংলাদেশ

সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদূত আনসারীর গুরুতর অভিযোগ

মেক্সিকোতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন–এর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে কাজে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির অভিযোগ তুলেছেন। রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) তিনি ব্যক্তিগত ফেসবুক পেজে একটি পোস্টে মেক্সিকোতে নিয়োগ, জাতিসংঘ অধিবেশনে অংশগ্রহণ এবং ভোটের আগে দেশে ফেরার ক্ষেত্রে বাধা দেওয়ার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন।

মুশফিকুল ফজল আনসারী লিখেন, ‘কোনো এক নিউজ ফিডে দেখলাম সদ্য বিদায়ী পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন নাকি জাতিসংঘে চাকরি খুঁজছেন। খবরটির সত্যতা যাচাই করার সুযোগ আমার হয়নি, তবে তিনি শুরু থেকেই আমার পথচলায় প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছেন। মেক্সিকোতে আমাকে পাঠানো, জাতিসংঘের অধিবেশনে অংশগ্রহণ, ভোটের আগে দেশে আসার ক্ষেত্রে বাধা—সব মিলিয়ে নানা সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সহকারী মহাসচিব পদের জন্য তাকে উৎসাহিত করেছিলেন এক বিদেশি সহকর্মী। লাটভিয়ার মিস ব্র্যান্ডস কেহরিস এই পদ থেকে অবসর নেওয়ায় পদটি শূন্য হয়, যা তিনি সরকারপ্রধান প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসকে জানান। পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ পেয়ে প্রাথমিকভাবে আবেদন করার অনুমোদনও পান।

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘এই ধরনের পদে সদস্য রাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক সমর্থন এবং নোট ভারবাল প্রয়োজন। যুক্তরাষ্ট্র থেকেও সহায়তার আশ্বাস পেয়েছিলাম। কিন্তু নিজের দেশের সমর্থন ছাড়া এগোনোর আগ্রহ ছিল না। আবেদন পাঠানোর পরপরই পররাষ্ট্র উপদেষ্টার কাছ থেকে বার্তা পাই, ‘not to proceed’। তারপর থেকে তিনি আমার ফোন ধরেননি।’

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘জাতিসংঘে যোগ্য প্রার্থীর নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় হয়। কিন্তু দেশের সমর্থন না পাওয়ায় হতাশা হয়েছে। আমি দেশের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার রক্ষায় নিজেকে নিবেদন করেছি। নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও বিষয়টি শেয়ার করেছি, তিনিও বিস্ময় প্রকাশ করেছিলেন।’

মুশফিকুল ফজল আনসারী বলেন, ‘বর্তমানে সমস্ত খোলাসা করছি না, তবে সময় এলে সত্য প্রকাশ পাবে। বিষয়টি নিয়ে একটি বই লিখব।’

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button