পাকিস্তানি হা/ম/লা বন্ধ, ব্যাপক সং/ঘা/তে জড়াতে অনিচ্ছুক আফগানিস্তান

কাবুল-এ পাকিস্তানের বিমান হামলা আপাতত বন্ধ রয়েছে এবং পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন BBC-এর আফগানিস্তান প্রতিনিধি হাফিজুল্লাহ মারুফ। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, কাবুলের বাসিন্দা ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের পাশাপাশি কান্দাহার প্রদেশ ও নানগারহার প্রদেশ-এর বাসিন্দারাও জানিয়েছেন যে বর্তমানে সেখানে হামলা বন্ধ রয়েছে। তবে সীমান্তের উভয় পাশে সর্বোচ্চ সতর্কতা বহাল আছে।
তালেবান-এর সামরিক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, তাদের ওপর আক্রমণ হলে তারা জবাব দেবে, কিন্তু এই মুহূর্তে নতুন করে সংঘর্ষে জড়ানোর ইচ্ছা নেই। ভোরের কাবুলে এখন আর যুদ্ধবিমানের শব্দ শোনা যাচ্ছে না বলেও জানিয়েছেন স্থানীয়রা। আগের হামলার পর শহরটি তুলনামূলক শান্ত। এখন পর্যন্ত কান্দাহার ও পাকতিকা প্রদেশ-এ হতাহতের কোনো খবর মেলেনি।
বিশ্লেষকদের মতে, পাকিস্তানের সঙ্গে সরাসরি বা পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়ানোর সম্ভাবনা তালেবানের জন্য খুবই সীমিত। পারমাণবিক অস্ত্রধর পাকিস্তানের সামরিক শক্তি বিশ্বে শীর্ষ ১৫ দেশের মধ্যে বিবেচিত হয়ে থাকে। অন্যদিকে তালেবানের সামরিক সক্ষমতা তুলনামূলক দুর্বল এবং তারা অর্থনৈতিক সংকটেও রয়েছে। তাদের অস্ত্রের প্রধান উৎস হলো সাবেক আফগান সেনাবাহিনীর ফেলে যাওয়া সরঞ্জাম, বিদেশি বাহিনীর রেখে যাওয়া অস্ত্র এবং আংশিকভাবে কালোবাজার থেকে সংগৃহীত সরঞ্জাম।
নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, অতীতের সীমান্ত সংঘর্ষে তালেবান মূলত হালকা অস্ত্র ব্যবহার করেছে। তবে গেরিলা কৌশলে তাদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে—যেমন আকস্মিক হামলা ও সড়কের পাশে বোমা পেতে রাখা।
এদিকে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে কূটনৈতিক তৎপরতাও শুরু হয়েছে। ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদ টেলিফোনে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার-এর সঙ্গে কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আলোচনায় সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও উত্তেজনা প্রশমনের উপায় নিয়ে কথা হয়েছে। বর্তমানে ইসহাক দার সরকারি সফরে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।



