‘খামেনিকে হ/ত্যা করে বড় ভুল করেছে যুক্তরাষ্ট্র’ পরিণতি কী

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা Ayatollah Ali Khamenei–কে হত্যার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র এক ঐতিহাসিক “বড় ভুল” করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ওয়াশিংটনভিত্তিক থিংকট্যাংক Atlantic Council–এর উপদেষ্টা Harlan Ullman। তাঁর মতে, শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূলের এই কৌশল (ডিক্যাপিটেশন) হিতে বিপরীত হতে পারে, কারণ ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থার নেতারা আর কোনোভাবেই নতি স্বীকার করবেন না।
উলম্যান আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, খামেনিকে হত্যার ফলে তাকে ‘শহীদ’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে, যা প্রতিরোধ যোদ্ধাদের আরও ঐক্যবদ্ধ করবে। তিনি সতর্ক করে জানান, সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের চেয়ারম্যান Ali Larijani অত্যন্ত দক্ষ একজন নেতা, এবং তার নেতৃত্বে ইরানের অবস্থান আরও কঠোর হবে।
উলম্যান উল্লেখ করেন, জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর স্থিতি নমনীয় হয়েছিল, কিন্তু ইরানের ক্ষেত্রে এমন সম্ভাবনা নেই। শীর্ষ নেতাদের সব অংশ পুরোপুরি নির্মূল করা সম্ভব হয়নি, ফলে এই আক্রমণ ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য “কাল” হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (Islamic Revolutionary Guard Corps) খামেনির মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর শোকবার্তায় জানিয়েছে, তারা দখলদার ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে “ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণাত্মক অভিযান” শুরু করতে যাচ্ছে। Fars News Agency–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আইআরজিসি এই অভিযান “মাত্র কয়েক মুহূর্তের মধ্যেই” শুরু করবে এবং খামেনিকে “মানবতার জঘন্যতম জল্লাদদের হাতে শহীদ” হিসেবে অভিহিত করেছে।
ইরানি কর্তৃপক্ষের ঘোষণায় জানা গেছে, রোববার ভোরের দিকে খামেনি নিজ দপ্তরে দায়িত্ব পালনকালে মৃত্যু বরণ করেন। তার স্মরণে দেশটিতে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump তার সামাজিক মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ খামেনিকে ইতিহাসের অন্যতম “নিকৃষ্ট ব্যক্তি” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা ও অত্যাধুনিক ট্র্যাকিং সিস্টেম ব্যবহার করে এই নিখুঁত অভিযান চালানো হয়েছে, যেখানে খামেনি বা তার সহযোগীদের পালানোর কোনো সুযোগ ছিল না।
ট্রাম্প আরও দাবি করেছেন, ইরানের বিপ্লবী গার্ড, সেনাবাহিনী ও পুলিশের অনেক সদস্য এখন আর যুদ্ধ করতে আগ্রহী নন এবং তারা আমেরিকার কাছে দায়মুক্তি প্রার্থনা করছে। তিনি বলেছেন, এক দিনের অভিযানে ইরান রাষ্ট্র অনেকটা “বিলীন” হয়ে গেছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যে পূর্ণ শান্তি প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত সপ্তাহজুড়ে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।



