মার্কিন এফ-১৫ যুদ্ধবিমান বি/ধ্ব/স্ত করলো ইরান

মধ্যপ্রাচ্যে চরম উত্তেজনার মধ্যে কুয়েত–এর আকাশসীমায় ইরানের মিসাইল আঘাতে যুক্তরাষ্ট্রের একটি এফ-১৫ ফাইটার জেট বিধ্বস্ত হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) দুপুর ১২টা নাগাদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, আকাশে উড়ন্ত অবস্থায় থাকা যুদ্ধবিমানটি হঠাৎ আঘাত পেয়ে আছড়ে পড়ে। ভিডিওতে অন্তত একজন পাইলটকে প্যারাসুট ব্যবহার করে নিরাপদে ইজেক্ট করতে দেখা গেছে। তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ বা ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি। এই ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইতিমধ্যে ইরানের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা আলি লারিজানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স–এ দেওয়া এক পোস্টে জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনায় বসবে না। লারিজানির মন্তব্য মূলত সেই প্রতিবেদনকে উড়িয়ে দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল তেহরান মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পুনরায় আলোচনা শুরার চেষ্টা করেছে।
লারিজানি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর সমালোচনা করে বলেন, ট্রাম্পের ‘মিথ্যা আশ্বাস’ পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে বিশৃঙ্খলার দিকে ঠেলে দিয়েছে। তার মতে, মার্কিন প্রশাসন এখন সেনাদের ব্যাপক হতাহতের আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে। লারিজানি আরও অভিযোগ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের আঞ্চলিক ক্ষমতার জন্য মার্কিন সেনাদের জীবন নষ্ট করছে, এবং ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ স্লোগানটি এখন কার্যত ‘ইসরায়েল ফার্স্ট’–এ রূপান্তরিত হয়েছে।
কুয়েতে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনা এবং তেহরানের অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে নতুন মোড় এনেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি পাল্টা কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেয়, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে।
এছাড়া, ইরান ও পশ্চিমা বিশ্বের মধ্যে চলমান ছায়াযুদ্ধ সরাসরি সংঘাতে রূপ নেওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বৃদ্ধি পেয়েছে। কুয়েত এবং আশপাশের আকাশসীমায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে, এবং মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সূত্র: এনডিটিভি



