সব দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে এক দফা ঘোষণা হতে পারে: শফিকুর রহমান

বাংলা টিভি ডেস্ক: জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তাদের ঘোষিত ছয় দফা দাবি এখন আট দফায় রূপ নিয়েছে। জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী দাবির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, আবার পরিস্থিতি বিবেচনায় সব দাবি বাদ দিয়ে এক দফার কর্মসূচিও আসতে পারে।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ঢাকা-রংপুর লংমার্চের অংশ হিসেবে টাঙ্গাইলের নগর জলফৈ বাইপাস এলাকায় আয়োজিত পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। একই বক্তব্যের খবর একাধিক সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমাদের ৬ দফা এখন ৮ দফায় পরিণত হয়েছে। জনগণের প্রয়োজনে দফা বাড়তে পারে। আবার জনগণের প্রয়োজনে সব দফা বিলুপ্ত ঘোষণা করে এক দফা ঘোষণা করার প্রয়োজন হতে পারে।’ এ সময় তিনি উপস্থিত নেতাকর্মীদের উদ্দেশে প্রস্তুত থাকার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘আজকের লংমার্চ আপনাদের দিকে। আগামীর লংমার্চ এখান থেকে ঢাকার দিকে। প্রস্তুত থাকবেন ইনশাল্লাহ।’
বক্তব্যে তিনি সরকারের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, কেন ‘জুলাই সদন’ বাস্তবায়ন করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, কোথাও অনির্বাচিত ব্যক্তিকে দিয়ে দেশ পরিচালনা করা হবে না—এমন প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বিভিন্ন জায়গায় প্রশাসক নিয়োগ করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এর মাধ্যমে জাতির সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।
শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ বিভিন্ন ধরনের ‘কার্ড’ চায়নি; বরং তারা যে অধিকার ও দাবি জানিয়েছিল, সেগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় আন্দোলনে নামতে হয়েছে।
পথসভায় বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, সামনে কঠিন সংগ্রাম রয়েছে এবং তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী সরকার জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। তিনি টাঙ্গাইলের মাওলানা ভাসানীর রাজনৈতিক উত্তরাধিকারের কথা উল্লেখ করে দিল্লির ‘আধিপত্যবাদের’ বিরুদ্ধে আন্দোলন অব্যাহত রাখার কথা বলেন।
এ সময় কর্নেল ড. অলি আহমেদ বলেন, আওয়ামী লীগের মাধ্যমে সরকার ও প্রশাসন পরিচালনার যে পদ্ধতি চলছে, তা দিয়ে দেশ পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তিনি সরকারকে ‘এক দফা আন্দোলনের দিকে ঠেলে না দেওয়ার’ আহ্বান জানান।
পথসভায় টাঙ্গাইল জেলা জামায়াতের আমির আহসান হাবীব মাসুদের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান এমপি, সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পারোয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আজাদ, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মুস্তাফিজুর রহমান ইরান, ঢাকা মহানগর জামায়াতের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল এমপি, নেজামে ইসলাম পার্টির নায়েবে আমির আল্লামা মুফতি মোখলেসুর রহমান কাসেমী, কর্নেল ড. অলি আহমেদের ছেলে ওমর ফারুক, এলডিপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বিলাল হোসাইন মিয়াজি এবং এনসিপির সরোয়ার তুষারসহ জোটের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
১১ দলীয় জোটের ঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে শনিবার ঢাকা থেকে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ শুরু হয়। এর আগে ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছিলেন, ১৯ সেপ্টেম্বর রংপুর অভিমুখে দ্বিতীয় লংমার্চ অনুষ্ঠিত হবে।



