ইরান যু/দ্ধ ১০ দিনের বেশি চললে ক্ষেপণাস্ত্র সংকটে পড়বে যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগনের সতর্কবার্তা

ইরান–এর সঙ্গে চলমান সংঘাত আরও ১০ দিন অব্যাহত থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত বিপজ্জনকভাবে কমে যেতে পারে—এমন আশঙ্কার কথা জানিয়েছে পেন্টাগন। আল জাজিরা–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুদ্ধের চতুর্থ দিনে জ্যেষ্ঠ সামরিক কর্মকর্তারা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–কে সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কে অবহিত করেছেন।
ইন্টারসেপ্টর সংকটের আশঙ্কা
ফাঁস হওয়া তথ্যে জানা গেছে, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ইন্টারসেপ্টর ব্যবস্থার ঘাটতি সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে। জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন সতর্ক করেছেন, ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বড় আকারে সামরিক সহায়তা দেওয়ার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুত ইতোমধ্যে কমে এসেছে।
গত বছরের সংঘাতে যুক্তরাষ্ট্র তাদের থাড (THAAD) ইন্টারসেপ্টরের প্রায় এক-চতুর্থাংশ ব্যবহার করে ফেলে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরান যেভাবে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে, তা প্রতিহত করতে ব্যয়বহুল প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র প্রয়োজন হচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর উদ্ধৃতি অনুযায়ী, ইরান মাসে প্রায় ১০০টি ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন করতে সক্ষম হলেও যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টারসেপ্টর উৎপাদন মাসে মাত্র ৬–৭টির মধ্যে সীমাবদ্ধ।
যুদ্ধের আর্থিক চাপ
দীর্ঘমেয়াদি সংঘাত শুধু অস্ত্রের ঘাটতিই নয়, বিপুল অর্থনৈতিক চাপও তৈরি করতে পারে। সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি–এর হিসাবে, একটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ পরিচালনায় প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৬৫ লাখ ডলার ব্যয় হয়। অভিযানের প্রথম ২৪ ঘণ্টায় যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় প্রায় ৭৭ কোটি ৯০ লাখ ডলারে পৌঁছেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেল–এর পরিচালক কেন্ট স্মেটার্স পূর্বাভাস দিয়েছেন, যুদ্ধ কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হলে ব্যয় ২১০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত এক বছরে কেবল ইসরায়েলকে সামরিক সহায়তা ও মধ্যপ্রাচ্যে অভিযানে ওয়াশিংটন ৩০ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেছে।
অস্ত্রভাণ্ডারের বাস্তবতা বনাম রাজনৈতিক দাবি
এদিকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দাবি করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার “ইতিহাসের সেরা অবস্থায়” রয়েছে এবং দীর্ঘ সময় যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা আছে।
তবে সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, জেডিএএম (JDAM) কিট—যা সাধারণ বোমাকে স্মার্ট বোমায় রূপান্তর করে—এবং নৌবাহিনীর এসএম-৩ ইন্টারসেপ্টরের মজুতও নিম্নমুখী। ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী ও ইরানের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের ফলে এসব অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে।
কৌশলগত ভারসাম্যের প্রশ্ন
পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত রাশিয়া বা চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্বল্পমেয়াদি ও তীব্র যুদ্ধের জন্য নকশা করা হয়েছিল। কিন্তু ইরানের মতো দেশের দীর্ঘস্থায়ী ও তুলনামূলক কম খরচের ড্রোন ও রকেট হামলা মোকাবিলায় এসব ব্যবস্থা অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত ব্যয়বহুল হয়ে উঠছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যয়–সামর্থ্যের ভারসাম্যহীনতা দীর্ঘমেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক প্রস্তুতিকে চাপে ফেলতে পারে।
সূত্র: এনডিটিভি



