১৬০টি কাটার পর স্থগিত হলো ২ হাজার গাছ কাটার প্রকল্প

ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাবখান নদী পাড়ের পুরাতন রাস্তার দুই পাশে প্রায় ৪ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় দুই হাজার গাছ কাটার উদ্যোগকে ঘিরে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের প্রতিবাদ এবং আদালতের নির্দেশনার পর আপাতত গাছ কাটা বন্ধ করেছে বন বিভাগ।
জানা গেছে, নদীর পাড়ে ব্লক বসানোর একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড। এই প্রকল্পের অংশ হিসেবে পুরাতন রাস্তার দুই পাশে থাকা বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। বন বিভাগের তথ্যমতে, ৪৭টি লটে মোট ১,৮১৫টি গাছ কাটার জন্য চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে বন বিভাগের একটি সূত্র বলছে, বাস্তবে এই সংখ্যা ২ হাজারেরও বেশি হতে পারে। ইতোমধ্যে গত এক সপ্তাহে অন্তত ১৬০টি মূল্যবান গাছ কেটে ফেলা হয়েছে।
এ বিষয়ে প্রথম প্রতিবাদ জানান পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিক ইসমাঈল মুসাফির। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরার পাশাপাশি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিতভাবে গাছ কাটা বন্ধের অনুরোধ জানান। পরে সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ও হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান মনজিল মোরশেদ উচ্চ আদালতের একটি রায়ের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে অবহিত করেন।
এরপর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক মো. মমিন উদ্দিন গাছ কাটা বন্ধ করার নির্দেশ দেন। নির্দেশনার পর জেলা বন বিভাগের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকিরুল হক সরকার গাছ কাটার কাজ স্থগিত করেন।
বন বিভাগের নথি অনুযায়ী, কাটা গাছগুলোর মধ্যে রয়েছে রাজ কড়ই, কাঞ্চন, তুলা, অর্জুন, শিশু, বাবলা, তেঁতুল, জারুল, নিম, কাঁঠাল, গামার, সেগুনসহ অন্তত ২৬ প্রজাতির গাছ। পরিবেশবিদদের মতে, ওই এলাকায় প্রায় ১০০ প্রজাতির পাখি এবং বিরল সরীসৃপসহ সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য রয়েছে।
পরিবেশকর্মী ও আইনজীবী নাসির উদ্দীন কবীর বলেন, এত বিপুলসংখ্যক গাছ কাটার পরিকল্পনা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি। সামাজিক বনায়ন ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রয়োজনে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তিনি।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, উচ্চ আদালতের রায়ের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। এখন গাছ কাটা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।



