ঈদ উপহার নিয়ে পথশিশুদের পাশে তিতুমীরের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা

ঈদ মানে আনন্দ, ঈদ মানে নতুন পোশাক এবং পরিবারের সঙ্গে কাটানো আনন্দময় মুহূর্ত । যখন পুরো শহর ঈদের কেনাকাটা ও উদযাপনের আনন্দে মুখর, তখন সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুরা অনেকটাই লোকচক্ষুর আড়ালে থেকে যায়। এবার রাজধানীর সরকারি তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা তাদের পাশে দাঁড়িয়ে ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করার মানবিক উদ্যোগ নিয়েছে।
“হতদরিদ্রের ঈদ আয়োজন ২০২৬” শিরোনামে প্রথমবারের মতো ৪০ জন পথশিশুকে নতুন জামা-কাপড় উপহার দেয় তারা।
কার্যক্রমটি পরিচালনা করেন ২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সুমন ইসলাম, সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন জান্নাতুল বুশরা, খন্দকার মুজাহিদুল, শরিফ আহমেদ ও জুনায়েদ হোসেন।
শুক্রবার (১৩ মার্চ) বাদ মাগরিব এই উপহার বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়। ঈদের নতুন জামা পেয়ে মহাখালীর আমতলী, ওয়্যারলেস, গুলশান ১ ও গুদারাঘাটের পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটে ওঠে।
আয়োজকরা জানান, এই ছোট্ট উদ্যোগের মাধ্যমে অবহেলিত শিশুদের কাছেও ঈদের আনন্দ পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে তারাও অনুভব করতে পারে- ঈদ সবার জন্য।
এই উদ্যোগটি নেয়া হয়েছিল ৬ মার্চ তারিখে । সাতদিন যাবত হোয়াটসঅ্যাপ ও মেসেঞ্জারে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীদের সাথে যোগাযোগ করে টাকা তোলা হয়।

সুমন ইসলাম জানান, আমি প্রতিদিন চারপাশে অনেক অনাথ ও অসহায় শিশুদের আহাজারি দেখি। ঈদের দিনও তারা কাঁদবে—এই পরিস্থিতির পরিবর্তন আনার জন্যই মূলত এই উদ্যোগ নেওয়া। আমি সত্যিই ঈদের আনন্দ উপভোগ করেছি তাদের নতুন কাপড় পাওয়ার পরে হাসিমুখ দেখে।
ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী জান্নাতুল বুশরা বলেন, ” ঈদ আনন্দ আমরা সবসময় পরিবার পরিজনের সাথে ভাগাভাগি করে থাকি। কিন্তু এবার সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের সাথে স্বল্প পরিসরে হলেও ঈদ আনন্দটা কে ভাগ করে নেয়ার অনুভূতি আসলেই অন্য রকম ছিলো। আশা করছি পরবর্তীতে আমরা আরো বড় পরিসরে পথশিশুদের জন্য এমন আয়োজন করতে পারবো ইন শা আল্লাহ।”
ইংরেজি বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী জুনায়েদ হাসান জানান, “আমাদের ঈদ তখনই সুন্দর ও সার্থক হয় যখন আমরা নিজেদের আনন্দ অসহায় শিশুদের সঙ্গে ভাগ করি। কাপড় বিতরণের সময় এক মায়ের আবেগময় অভিজ্ঞতা দেখি। একজন মা তার মেয়েকে বলছিল, “দেখেছ মা, আজ সকালেও চিন্তা করতেছিলাম কিভাবে তোমাকে একটা নতুন জামা কিনে দিব ? কিন্তু আল্লাহ ঠিকই ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। তুমি তোমার ভাইদের জন্য দোয়া করিও। সেই মুহূর্তে আমার হৃদয় পরিতৃপ্ত হয়ে গেল। এই মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে পেরে আমি আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করছি।

ঈদ উপলক্ষে নতুন জামা-কাপড় পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত পথশিশুদের মুখে হাসি ফুটে উঠে।
আলমিনা নামের ৯ বছর বয়সী এক শিশুর মা উপহার পেয়ে জানান, ” সকাল থেকে ঈদের জামার জন্য কান্না করছিল আমার মেয়েটা। রাত শেষ না হতেই আল্লাহ ব্যবস্থা করে দিয়েছে ।”
মিথিলা ও রনি আপন ভাইবোন, তাদের বাবা নেই, খালি পায়ে রাস্তায় হাঁটছিলেন। ঈদের নতুন জামা পেয়ে তারা জানায়, মা বলেছে পুরাতন জামা দিয়েই ঈদ পালন করতে হবে। কিন্তু নতুন জামা পেয়ে খুশি হয়ে মিথিলা বলেন, আল্লাহ এটা অনেক সুন্দর জামা! জামার সাথে টাকা রাখার ছোট পকেটও আছে ।
সুমাইয়ার বাবা কিছুদিন আগেই মারা গেছে, ঈদে জামা কেনার সামর্থ্য নেই তার। নতুন জামা পেয়ে সে খুশি হয়ে বলে, আমি এখন পড়বো না, ঈদের দিন পড়বো।
লিমনের বাবা রিক্সা চালায়, নতুন কাপড় কিনতে না পারায়, মন খারাপ ছিলো তার। নতুন কাপড় পেয়ে খুশি হয়ে সে বলে, আমাকে অনেক সুন্দর মানিয়েছে, আর পুরাতন কাপড় পড়তে হবে না।
ওএফ



