
বাগেরহাটের খুলনা-মোংলা মহাসড়কে বাস ও মাইক্রোবাসের সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হওয়ার পর পরিবারগুলোতে পবিত্র ঈদুল ফিতরের কোনো আনন্দ নেই। দুর্ঘটনায় বর-কনেসহ পরিবারের বহু সদস্যসহ স্বজন হারানো এই পরিবারগুলো এখনও শোকে নিমজ্জিত।
মোংলা উপজেলার আব্দুর রাজ্জাকের বাড়ি, যেখানে বর আহাদুর রহমান সাব্বির, তাঁর বাবা আব্দুর রাজ্জাক, বরের ভাই, বোন, ভাইয়ের স্ত্রী ও সন্তানসহ ৯ জন নিহত হন, এখন শূন্যতা ও নীরবতায় পরিপূর্ণ। প্রতিবেশীরা জানান, প্রতি বছর এই সময়ে বাড়ি ছিল উৎসব ও আনন্দে মুখর, এবার নেই কোনো চাঞ্চল্য।
নববধূ মার্জিয়া আক্তার মিতুর পরিবারও একই শোকে ভুগছে। স্বামী, দুই মেয়ে, মা ও শাশুড়ি হারানোর কারণে পরিবারের মধ্যে ঈদের কোনো আমেজ নেই। মৃতদের দাফন কার্যক্রম বিভিন্ন স্থানে সম্পন্ন হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর থেকে পরিবারের মানুষদের দৈনন্দিন জীবন বিপর্যস্ত। কাউকে সান্ত্বনা দেওয়া, কবর জিয়ারত—এভাবেই তারা দিন কাটাচ্ছেন। জেলা প্রশাসন, নৌবাহিনী এবং মন্ত্রণালয় কর্তৃক নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
এই দুর্ঘটনা শুধু পরিবারের জন্য নয়, আশপাশের মানুষের ঈদের আনন্দও ম্লান করেছে। দীর্ঘদিনের স্বজন হারানোর শূন্যতা ও শোক স্থানীয় সমাজে গভীর প্রভাব ফেলেছে।



