বাংলাদেশ

বকশীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গার্ড অব অনার দিতে বাধা, দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই

জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনের (৮৫) দাফন রাষ্ট্রীয় মর্যাদা (গার্ড অব অনার) ছাড়াই সম্পন্ন হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডারসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার আপত্তির কারণে তা স্থগিত করা হয়।

পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জানাজা শেষে সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

প্রশাসনের ভাষ্য, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে পুলিশ নিয়ে ঘটনাস্থলে যাওয়ার পথে তাদের গতিরোধ করে আপত্তি জানান উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার ও উপজেলা বিএনপির মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা। তাদের আপত্তির মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান স্থগিত করা হয়।

দেলোয়ার হোসেন সাধুরপাড়া নজরুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন তিনি। বুধবার রাত ৩টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে নিজ বাড়িতে তার জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়।

জানা যায়, দেলোয়ার হোসেনকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসমা উল হুসনার নেতৃত্বে পুলিশ সদস্যরা মদনেরচরের উদ্দেশে রওনা হন। পথে তাদের থামিয়ে দেন নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা।

তাদের দাবি, দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন এবং জাল সনদের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ কারণে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়া যাবে না বলে তারা আপত্তি জানান। একপর্যায়ে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের ফিরে যেতে হয়।

দেলোয়ার হোসেনের ছেলে শামীম মিয়া বলেন, আমার বাবা শিক্ষক ছিলেন। তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা। মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পেতেন। এখন কিছু মুক্তিযোদ্ধা আমার বাবাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দিয়েছেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই তার মরদেহ দাফন করেছি। কী কারণে তারা বাধা দিয়েছেন, সেটা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার নওশেদ আলী বলেন, দেলোয়ার হোসেন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা নন। নিয়মবহির্ভূতভাবে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা না হওয়ায় এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানের বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদানে বাধা দেওয়া হয়েছে।

বকশীগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাসুদ উল হাসান বলেন, দেলোয়ার হোসেন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি সব সুযোগ-সুবিধা পেতেন। তিনি মুক্তিযোদ্ধা না হলে কীভাবে মুক্তিযোদ্ধা ভাতা পেয়েছেন? সরকার যেখানে তাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্মান দিয়েছে, সেখানে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দিতে বাধা দেওয়া দুঃখজনক।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার সব প্রস্তুতি নিয়ে তারা মদনেরচর গ্রামে যাচ্ছিলেন। পথে নওশেদ আলীসহ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা রাষ্ট্রীয় মর্যাদা দেওয়ার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানান। তাদের বাধার মুখে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে তাৎক্ষণিকভাবে রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান স্থগিত করা হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button