বাংলাদেশঅপরাধজনদুর্ভোগ

ফরিদপুরে ‘তেল নাই’ লেখা পাম্পে মিলল ২৮ হাজার লিটার তেল

ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের কানাইপুর বাজার ও এর পাশে অবস্থিত দুটি পেট্রোল পাম্পে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করেছে। অভিযানে একটি পাম্পকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং আরেকটি পাম্পে তেল থাকলেও বিক্রি বন্ধ রাখার কারণে সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়েছে।

জেলা প্রশাসনের সূত্রে জানা যায়, শনিবার (২৮ মার্চ) দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত এই অভিযান অনুষ্ঠিত হয়। ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর বাজারে অবস্থিত হোসেন ফিলিং স্টেশন ও রয়েল ফিলিং স্টেশনে অভিযান পরিচালনা করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মেশকাতুল জান্নাত রাবেয়া। অভিযানে অংশ নেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলামসহ অন্যান্য ম্যাজিস্ট্রেটরা।

অভিযান চলাকালে কানাইপুর বাজারের দুলাল কুন্ডুর দোকান, গুদাম ও বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়, তবে পেট্রোল বা অকটেন মজুতের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র অনুমোদিত পরিমাণে ডিজেল পাওয়া যায়।

হোসেন ফিলিং স্টেশনে অভিযানকালে দেখা যায়, পাম্পটি বন্ধ রাখা হয়েছে, অথচ সেখানে ৭ হাজার লিটার পেট্রোল, ৬ হাজার ৫০০ লিটার অকটেন এবং ১৪ হাজার ৫০০ লিটার ডিজেলসহ মোট ২৮ হাজার লিটার তেল মজুত ছিল। ভোক্তাদের কাছে বিক্রি বন্ধ রাখার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হওয়ায় পাম্পের ম্যানেজার সাবির চৌধুরীকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর আওতায় ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং পাম্প খুলে তেলের সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়।

রয়েল ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, শুধু ডিজেল বিক্রি করা হচ্ছে, পেট্রোল ও অকটেন বিক্রি বন্ধ। সেখানে মজুত যাচাই করলে ৩ হাজার ৫০০ লিটার পেট্রোল, ৩ হাজার ৪০০ লিটার অকটেন ও ১৯ হাজার লিটার ডিজেল পাওয়া যায়। পাম্প কর্তৃপক্ষ যান্ত্রিক ত্রুটির কথা উল্লেখ করে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাত্ক্ষণিকভাবে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পুনরায় চালু করা হয়। এখানে কোনো জরিমানা করা হয়নি।

সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে ওই দুইটি পাম্পে স্বাভাবিকভাবে জ্বালানি সরবরাহ কার্যক্রম চলছে। ভবিষ্যতেও মজুতদারদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button