অন্যান্য
সচিবদের থাইল্যান্ড পাঠানোর খবরটি অসত্য: বিয়াম ফাউন্ডেশন

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অধীনে ৩০০ জন সচিবকে ইংরেজি শিখতে থাইল্যান্ডে পাঠানোর যে সংবাদ সম্প্রতি একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রকাশিত হয়েছে, তা সম্পূর্ণ ‘অসত্য, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও বিভ্রান্তিকর’ বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট (বিয়াম) ফাউন্ডেশন। এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে একটি আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদলিপি দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
সম্প্রতি ‘স্টার নিউজ’ নামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে “ইংরেজি শিখতে ৩০০ সচিবকে থাইল্যান্ড পাঠাবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়” শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশিত হয়। এর প্রেক্ষিতে বিয়াম ফাউন্ডেশন কর্তৃপক্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোতে এই প্রতিবাদলিপি পাঠায়।
প্রতিষ্ঠানটি জানায়, ‘Strengthening Institutional Capacity of BIAM for Conducting Core Courses’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় গভর্ন্যান্স, ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট এবং নেগোসিয়েশন স্কিলস-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দেশে ও বিদেশে প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি ব্যাচের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ ইতালিতে সম্পন্ন হয়েছে।
সংবাদে প্রশিক্ষণার্থীদের গন্তব্য হিসেবে ‘পাতায়া’ শহরের নাম উল্লেখ করার বিষয়টিকেও কড়া ভাষায় নাকচ করেছে বিয়াম। তারা জানায়, উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ‘পাতায়া’ শব্দটি ব্যবহার করে এই গুরুত্বপূর্ণ পেশাদার প্রশিক্ষণকে ‘পর্যটনকেন্দ্রিক’ ও অপ্রাসঙ্গিক হিসেবে দেখানোর অপচেষ্টা করা হয়েছে। প্রশিক্ষণের সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ার কোনো স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়কে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিয়াম আরও জানিয়েছে, থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়ায় প্রশিক্ষণের এই প্রস্তাবটি এখনও সম্পূর্ণ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। এটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি এবং অনুমোদনের জন্য একনেক (ECNEC)-এ প্রেরণ করা হয়নি।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়েছে, ‘নেগোসিয়েশন স্কিলস’-এর বৈদেশিক অংশটি যুক্তরাজ্যের সিভিল সার্ভিস কলেজে আয়োজনের সিদ্ধান্ত ছিল। কিন্তু বিদ্যমান বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক বাস্তবতায় সরকারের আর্থিক সাশ্রয়ের কথা বিবেচনা করে, ইউরোপের পরিবর্তে এশিয়ার কোনো স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানে (থাইল্যান্ড বা মালয়েশিয়া) বাকি প্রশিক্ষণার্থীদের পাঠানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিয়াম ফাউন্ডেশন স্পষ্ট করেছে যে, এই প্রশিক্ষণ কোনোভাবেই শুধু সচিবদের জন্য নয় এবং এটি কেবল ইংরেজি শেখার কোনো কোর্সও নয়। মূলত এটি সরকারের মধ্যম পর্যায়ের কর্মকর্তাদের আন্তর্জাতিক মানের সক্ষমতা ও কূটনৈতিক দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে গৃহীত একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ।
সঠিক তথ্য যাচাই না করে এমন বিভ্রান্তিমূলক সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিয়াম ফাউন্ডেশন জানায়, এটি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং বিয়ামের মতো স্বনামধন্য প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর ও অনাকাঙ্ক্ষিত। সরকারের একটি ইতিবাচক উদ্যোগকে ব্যাহত করার এমন হীন প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে তারা শক্ত প্রতিবাদ জানিয়েছে।
বাংলা টিভি / ব



