শ্রুতলেখক না পেয়ে অনিশ্চয়তায় শরিফের এসএসসি স্বপ্ন

জন্ম থেকেই দৃষ্টিহীন হলেও স্বপ্ন দেখায় থেমে থাকেনি শরিফ আলী। কিন্তু এসএসসি পরীক্ষার ঠিক আগে এসে বড় এক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে তার সেই স্বপ্ন—এখনো পর্যন্ত একজন শ্রুতলেখক না পাওয়ায় পরীক্ষায় অংশগ্রহণই অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
ঠাকুরগাঁও পৌর শহরের গোবিন্দনগর এলাকার বাসিন্দা শরিফ, একজন ইজিবাইকচালকের ছেলে। পরিবারের সীমিত সামর্থ্য সত্ত্বেও বাবা-মা তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিয়েছেন। ছোটবেলায় মা মুখে মুখে পড়া শোনাতেন, আর শরিফ তা দ্রুত মুখস্থ করে নিত। পরে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চবিদ্যালয়-এ ভর্তি হন এবং সেখান থেকেই এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা।
আগামী ২১ এপ্রিল শুরু হতে যাওয়া এই পরীক্ষায় অংশ নিতে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য একজন শ্রুতলেখক থাকা বাধ্যতামূলক। কিন্তু বহু চেষ্টা করেও শরিফ এখনো কাউকে খুঁজে পাননি। ফলে তার দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
নিজের অসহায়তার কথা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আবেগঘন পোস্টও দিয়েছেন শরিফ। সেখানে তিনি লিখেছেন—স্বপ্ন আছে, ইচ্ছা আছে, কিন্তু নিজের হাতে লিখতে না পারায় একজন রাইটার ছাড়া তার পক্ষে পরীক্ষা দেওয়া সম্ভব নয়। তিনি মানবিকতার জায়গা থেকে সবার সহযোগিতা কামনা করেছেন।
শরিফের মা জানান, ছেলের অদম্য ইচ্ছাশক্তিই তাদের সাহস জোগায়। কিন্তু শুধুমাত্র একজন শ্রুতলেখক না পাওয়ার কারণে তার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে—এই চিন্তাই তাদের কষ্ট দিচ্ছে।
তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ আশার কথা শুনিয়েছে। প্রধান শিক্ষক জানিয়েছেন, শরিফ নিজে কাউকে না পেলেও পরীক্ষার আগেই স্কুল থেকে একজন শ্রুতলেখকের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে।
সব বাধা পেরিয়েও এগিয়ে চলা এই শিক্ষার্থীর এখন একটাই আশা—কেউ এগিয়ে এসে তার পাশে দাঁড়াবে, আর সে তার স্বপ্নের পথে আরেক ধাপ এগোতে পারবে।



