সাবেক এমপি বুবলীকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ

বাংলা টিভি ডেস্ক: সন্ত্রাসবিরোধী আইনে করা একটি মামলায় নরসিংদীর সংরক্ষিত নারী আসনের সাবেক এমপি তামান্না নুসরাত বুবলীকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
সোমবার (৪ মে) ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মোহাম্মদ জুনাইদ তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ আদেশ দেন। আসামিকে আদালতে হাজির করে তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক মো. শরিফুল ইসলাম এ আবেদন করেন।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী শুনানি করেন।
তিনি আদালতে বলেন, এ মামলার ঘটনায় তার ঘনিষ্ঠতা রয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। এ জন্য তাকে এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হোক। আদালতে বুবলীর পক্ষে আইনজীবী তাহমিনা তাহেরীণ মুমু শুনানি করেন।
তিনি শুনানিতে বলেন, তদন্ত কর্মকর্তা আসামির বিরুদ্ধে মিছিলের টাকার জোগানদাতা যে অভিযোগ দিয়েছেন সেটি ভিত্তিহীন। কারণ এর কোনো স্লিপ নেই। দার দুইটা বাচ্চা আছে বাসায়। নরসিংদী থেকে কিভাবে টাকার জোগান দেবে সে? সার্বিক বিবেচনায় তাকে জামিন দেওয়া উচিত।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, গত বছরের ৭ সেপ্টেম্বর দুপুর আনুমানিক ১টা ৩০ মিনিটে তেজগাঁও থানাধীন বিজয় স্বরণি এলাকায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা একটি রাষ্ট্রবিরোধী মিছিল বের করে। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি করে উসকানিমূলক স্লোগান দেন এবং জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসামিরা পালানোর চেষ্টা করে। সে সময় হাতেনাতে মিরাজুল ইসলাম ওরফে মিঠু নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। যার কাছ থেকে শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি সংবলিত প্লাস্টিকের ব্যাগ এবং ককটেল বিস্ফোরণের আলামত উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক নিয়াজ উদ্দিন এজাহারনামীয় ১০ জন ও অজ্ঞাত ৩০-৪০ জনের নামে বাদী হয়ে মামলা করেন।
আবেদন অনুযায়ী ঘটনার পর স্থানীয় তদন্ত ও গ্রেপ্তারকৃত আসামির জিজ্ঞাসাবাদে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে সাবেক এমপি তামান্না নুসরাত বুবলী ওই মিছিলের অর্থ জোগানদাতা ছিলেন। এজন্য তাকে এ মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের জন্য গ্রেপ্তার দেখানো হোক।
তামান্না নুসরাত বুবলী বর্তমানে অন্য একটি মামলায় ডিএমপি তেজগাঁও থানার মামলায় গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে জেলহাজতে রয়েছেন। তেজগাঁও থানায় দায়েরকৃত এ নাশকতার মামলায় সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাকে পুনরায় গ্রেপ্তার দেখানো প্রয়োজন।



