Uncategorized

মা দিবসে শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে মায়ের ত্যাগ, ভালোবাসা ও প্রেরণার গল্প

মা এক অক্ষরের একটা শব্দ। যা স্নেহ, মমতা, ত্যাগ ও সন্তানের প্রতি নিঃস্বার্থ ভালোবাসার প্রতীক। মায়ের ভালোবাসা, ত্যাগ ও স্নেহের কোনো তুলনা হয় না; জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে মায়ের অবদান অবিস্মরণীয়। মাকে নিয়ে পৃথিবীতে লেখা হয়েছে অসংখ্য কবিতা, গল্প, উপন্যাস। নির্মিত হয়েছে বহু চলচ্চিত্র। ধর্মেও দেওয়া হয়েছে মায়ের বিশেষ মর্যাদা। জ্ঞানী গুণীরা মা কে সংজ্ঞায়িত করেছে নানাভাবে।  ইংরেজ সাংবাদিক রুডইয়ার্ড কিপলিং বলেছেন, “সৃষ্টিকর্তা সব জায়গায় থাকতে পারেন না, তাই তিনি মা বানিয়েছেন”। যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম রাষ্ট্রপতি জর্জ ওয়াশিংটন বলেছেন, “আমার দেখা সবচেয়ে সুন্দরী মহিলা হলেন আমার মা। মায়ের কাছে আমি চিরঋণী। আমার জীবনের সমস্ত অর্জন তারই কাছ থেকে পাওয়া নৈতিকতা, বুদ্ধিমত্তা আর শারীরিক শিক্ষার ফল ।”

 

এবারের মা দিবসে সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থীদের ভাবনা তুলে ধরেছেন মো.দিদারুল ইসলাম সিফাত।

 

মা কে জীবনের প্রথম শিক্ষক উল্লেখ করে উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী সাদিয়া জাহান মিম বলেন, মা কে ভালোবাসার জন্য একটা দিন যথেষ্ট না। প্রতিদিনই মা কে ভালোবাসা যায়, সম্মান আর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যায়। তবুও মা দিবস আমাদের একটা বিশেষ সুযোগ দেয়, যেদিন আমরা একটু বেশি করে মাকে অনুভব করতে পারি, তার প্রতি আমাদের ভালোবাসা প্রকাশ করতে পারি। মা আমাদের জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় আশ্রয়। তার ত্যাগ, ধৈর্য আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসা কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। তিনি আমার প্রেরণা, আমার শক্তি। পৃথিবীর সব মায়েরা ভালো থাকুক।

 

বটবৃক্ষের সাথে মায়ের তুলনা করে অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মোঃ সোহেল মিয়া জানান, পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট শব্দগুলোর মধ্যে একটি হলো মা। কিন্তু এই শব্দের গভীরতা, বিস্তৃতি আর ভালোবাসার পরিমাণ করার মতো কোনো মানদণ্ড আজও পৃথিবীতে তৈরি হয়নি। এই একটি শব্দের মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক মহাসমুদ্রের সমান নিঃস্বার্থ ভালোবাসা। মা মানে একটি বিশাল বটবৃক্ষের ছায়া, যে ছায়া সন্তানকে সবকিছু থেকে আগলে রাখে। মা ও সন্তানের বন্ধন অটুট থাকুক, সব বৃদ্ধাশ্রম বিলীন হয়ে যাক এই প্রত্যাশা করি।

 

 

পৃথিবীর কোন উপহারই মায়ের ভালোবাসার চেয়ে দামী না উল্লেখ করে ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মানসুরা আক্তার বলেন, মা শুধু একজন জন্মদাত্রী নন, বরং তিনি আমাদের প্রথম পথপ্রদর্শক, প্রথম শিক্ষক এবং জীবনের শ্রেষ্ঠ বন্ধু। মা তার সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের জন্য নিজের প্রতিটি ইচ্ছা, আরাম এবং সুখ বিসর্জন দিতে দ্বিধা করেন না। জীবনের প্রতিটি কঠিন সময়ে মা-ই হন আমাদের প্রধান অনুপ্রেরণা এবং পরম আশ্রয়স্থল। মা দিবস অত্যন্ত জাঁকজমকভাবে পালন করা হয়। এই বিশেষ দিনে সন্তানরা মাকে উপহার দেয় কিংবা বিশেষ সময় কাটায়। তবে আমাদের মনে রাখা প্রয়োজন, মা দিবসের প্রকৃত সার্থকতা কেবল বছরে একদিনের উপহার বা অনুষ্ঠানের মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। মা দিবস তখনই পরিপূর্ণভাবে সার্থক হবে, যখন আমরা বছরের ৩৬৫ দিনই মায়ের যত্ন নিতে পারব, তাঁকে যথাযথ সম্মান দিতে পারব এবং তাঁর বার্ধক্যে তাঁর পাশে পরম মমতা নিয়ে দাঁড়াতে পারব। পৃথিবীর কোনো উপহারই মায়ের ভালোবাসার সমান হতে পারে না।পৃথিবীর সব মা দীর্ঘায়ু লাভ করুক।

 

মায়ের অবদানের কথা স্বীকার করে হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী মোকছেদুল হক বলেন, একজন মা শুধু একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের জীবনের সবচেয়ে নিঃস্বার্থ, স্নেহময়ী এবং শ্রদ্ধেয় মানুষ। গর্ভে ধারণ থেকে শুরু করে জন্মদান ও লালন-পালনের মধ্য দিয়ে তিনি একটি সন্তানের পুরো পৃথিবী গড়ে তোলেন। আমার জীবনেও আমার মা ঠিক তেমনই একজন মানুষ, যার ভালোবাসা আর ত্যাগের ঋণ কখনো শোধ হওয়ার নয়। আমি আজও ভুলতে পারি না, ইন্টারমিডিয়েট পাস করার পর যখন উচ্চশিক্ষার জন্য বাড়ির বাইরে যাচ্ছিলাম, তখন আমার মা কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন। বিদায়ের মুহূর্তে কাঁপা হাতে আমার পকেটে কিছু টাকা গুঁজে দিয়ে বলেছিলেন, “বাবা, কিছু খেয়ে নিও।”সেই মুহূর্তটি আজও আমার হৃদয়ে গভীরভাবে গেঁথে আছে। হোস্টেল জীবনের প্রতিটি দিনেই আমি অনুভব করেছি মায়ের অকৃত্রিম ভালোবাসা। প্রতিদিন ফোন করে মা কথা বলেন। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও সন্তানের খোঁজ নেওয়াই যেন ছিল তার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব। আমাদের বাড়িতে কোনো ভিক্ষুক এলে মা কখনো খালি হাতে ফেরান না। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কিছু দিয়ে বলতেন, “আমার সন্তান বাইরে পড়াশোনা করে, তার জন্য একটু দোয়া করবেন।”একজন মায়ের হৃদয়ে সন্তানের জন্য কতটা মমতা আর উদ্বেগ থাকতে পারে, সেটি আমি প্রতিনিয়ত উপলব্ধি করেছি।

 

মায়ের ত্যাগের কথা স্মরণ করে ইসলাম শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থী হনুফা আক্তার জানান, পৃথিবীর বুকে যদি কোনো নিঃস্বার্থ ভালোবাসার অস্তিত্ব থাকে, তবে তা হলো মায়ের ভালোবাসা। মা শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে এক পৃথিবী সমান শান্তি। মা কেবল একজন অভিভাবক নন, তিনি সন্তানের শ্রেষ্ঠ সম্পদ, যার ভালোবাসার কোনো শর্ত বা স্বার্থ থাকে না। আমাকে শিখিয়েছেন—খারাপ সময় চিরস্থায়ী নয়, বরং ধৈর্য ধরলে ভালো সময়কে আরও সুন্দরভাবে উপভোগ করা যায়। আমার মায়ের জীবন ত্যাগের এক অনন্য মহাকাব্য। নিজের প্রতিটি ছোট-বড় ইচ্ছা বিসর্জন দিয়ে তিনি আমার আবদার মিটিয়েছেন। মা কখনো বিলাসিতার জীবন যাপন করেননি, কিন্তু আমার জীবন যাতে সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়, সেদিকে সবসময় খেয়াল রেখেছেন। বৃদ্ধাশ্রমে যেন কোনো মাকে রাত কাটাতে না হয় মা দিবসে সে প্রত্যাশা রাখি।

 

ওএফ

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button