আন্তর্জাতিকইন্ডিয়া

৫৪ বছর পর প্রথমবার পশ্চিমবঙ্গের মন্ত্রিসভায় ঠাঁই হলো না কোনো মুসলিমের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের পশ্চিমবঙ্গে নতুন সরকার গঠনের পর মন্ত্রিসভায় কোনো মুসলিম সদস্য না থাকায় বিষয়টি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি করেছে। রাজ্যের ইতিহাসে কয়েক দশকের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো মুসলিম প্রতিনিধিত্ববিহীন পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠিত হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার নতুন ৩৫ জন মন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিসভার সদস্যসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪১ জনে। তবে এই মন্ত্রিসভার সব সদস্যই হিন্দু ধর্মাবলম্বী হওয়ায় সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের প্রশ্ন সামনে এসেছে।

রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনে ক্ষমতাসীন বিজেপি কোনো মুসলিম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়নি। দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতা নির্বাচনের সময় সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভর না করার অবস্থানও প্রকাশ করেছিলেন। যদিও ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, বিধায়ক না হয়েও কোনো ব্যক্তি মন্ত্রী হতে পারেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তিনি নির্বাচিত হন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পশ্চিমবঙ্গে মুসলিম জনগোষ্ঠী মোট ভোটারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ হওয়ায় দীর্ঘদিন ধরেই রাজ্যের মন্ত্রিসভায় তাদের প্রতিনিধিত্ব ছিল। স্বাধীনতার পরবর্তী কিছু সময় ছাড়া গত কয়েক দশকের প্রায় সব সরকারেই মুসলিম মন্ত্রী গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন।

ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল কংগ্রেস—সব শাসনামলেই মুসলিম প্রতিনিধিরা মন্ত্রিসভার অংশ ছিলেন। বিভিন্ন সময়ে ফিরহাদ হাকিম, জাভেদ আহমেদ খান, সিদ্দিকুল্লাহ চৌধুরী, আবদুর রাজ্জাক মোল্লা ও এবিএ গনি খান চৌধুরীর মতো নেতারা গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেছেন।

নতুন মন্ত্রিসভায় নারী প্রতিনিধিত্বও তুলনামূলকভাবে সীমিত। ৪১ সদস্যের মন্ত্রিসভায় মাত্র সাতজন নারী স্থান পেয়েছেন। তাদের মধ্যে অগ্নিমিত্রা পল একমাত্র পূর্ণমন্ত্রী, অন্যরা প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

এদিকে মন্ত্রিসভার তালিকায় কয়েকজন আলোচিত রাজনৈতিক ও জনপরিচিত মুখের অনুপস্থিতিও নজর কেড়েছে। বিশিষ্ট অভিনেতা-রাজনীতিক রূপা গাঙ্গুলি ও রুদ্রনীল ঘোষের মতো নেতারা মন্ত্রিসভায় স্থান পাননি। পাশাপাশি আলোচিত আরজি কর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকেন্দ্রিক আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত এক বিধায়ককেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান মন্ত্রিসভার গঠন বিজেপির নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতিফলন। তবে ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বাস্তবতা ও দলের অভ্যন্তরীণ পরিবর্তনের কারণে সংখ্যালঘু প্রতিনিধিত্বের বিষয়টি নতুনভাবে বিবেচিত হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button