বাংলাদেশ

কফিনবন্দী হয়ে লেবানন থেকে ফিরলো পরিবারের একমাত্র ছেলেটি

বাংলা টিভি ডেস্ক: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে লেবাননে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার তরুণ প্রবাসী নাহিদুল ইসলাম নাহিদের মরদেহ অবশেষে নিজ গ্রামে পৌঁছেছে। রোববার (৭ জুন) সকালে কফিনবন্দী মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে শোকের ছায়া নেমে আসে পুরো এলাকায়।

শনিবার গভীর রাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লেবাননে নিহত দুই বাংলাদেশির মরদেহ আনা হয়। পরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

রোববার দুপুরে আশাশুনির কাদাকাটি দাখিল মাদ্রাসা মাঠে নাহিদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় হাজারো মানুষ অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। একই দিনে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ভালুকা চাঁদপুর গ্রামে নিহত আরেক প্রবাসী শফিকুল ইসলামেরও দাফন সম্পন্ন হয়েছে।

গত ১১ মে দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়ে অঞ্চলের জিবদিন এলাকায় নিজ বাসভবনে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হন নাহিদুল ইসলাম নাহিদ (২০) ও শফিকুল ইসলাম (৪৮)। প্রায় এক মাস পর তাদের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা হলো।

নাহিদের স্বজনরা জানান, পরিবারের আর্থিক সংকট দূর করতে এবং বাবার চিকিৎসার খরচ জোগাতে তিনি বিদেশে গিয়েছিলেন। তার বাবা একজন প্রতিবন্ধী এবং পরিবারের প্রধান উপার্জনকারী হিসেবে নাহিদের ওপরই নির্ভরশীল ছিলেন সবাই।

নাহিদের চাচা জানান, মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে ভিডিও কলে তিনি যুদ্ধ পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন এবং নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। পরে পরিবারের সদস্যরা তার মৃত্যুর খবর পান।

পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে আর্থিক সহায়তা ও পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

উপজেলা প্রশাসন ও প্রবাসী কল্যাণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, পরিবারকে ইতোমধ্যে জরুরি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বৈধভাবে বিদেশে যাওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার মোট ১৩ লাখ টাকার আর্থিক সুবিধা পাবে। এর মধ্যে ৩ লাখ টাকা সরকারি অনুদান এবং ১০ লাখ টাকা জীবন বীমা কর্পোরেশনের সুবিধা হিসেবে প্রদান করা হবে।

এদিকে, লেবাননে নিহত সাতক্ষীরার আরেক প্রবাসী শুভ কুমার দাসের মরদেহও দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button