ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের ওপর বসছে না প্যাকেজ ভ্যাট, তামাকের করও শিথিল

বাংলা টিভি ডেস্ক: খুচরা ব্যবসায়ীদের তীব্র আপত্তি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা (এসএমই) খাতের ওপর সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বহুল আলোচিত ‘প্যাকেজ ভ্যাট’ চালুর প্রস্তাব থেকে সরে আসছে সরকার। একই সঙ্গে তামাক খাতে প্রস্তাবিত কয়েকটি কর বৃদ্ধির সিদ্ধান্তও শিথিল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারি সূত্র জানিয়েছে, এর ফলে আমদানি পর্যায়ে নিকোটিন পাউচের ওপর বিদ্যমান ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক বহাল থাকতে পারে। পাশাপাশি সিগারেট উৎপাদনে ব্যবহৃত আমদানিকৃত কাঁচামালের ওপর প্রস্তাবিত অতিরিক্ত করও আরোপ করা হচ্ছে না।
বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বছরে ৫০ লাখ টাকা বা তার বেশি টার্নওভার রয়েছে—এমন খুচরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানকে ভ্যাট নিবন্ধন নিতে হয়। তবে নতুন বাজেটে টার্নওভারের সীমা তুলে দিয়ে সব খুচরা ব্যবসাকে আগামী ১ জুলাই থেকে ভ্যাটের আওতায় আনার প্রস্তাব করা হয়েছিল।
এ প্রস্তাব ঘোষণার পর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ দেখা দেয়। তাদের দাবি, এতে ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বাড়বে এবং ভ্যাট প্রশাসনের হয়রানির ঝুঁকিও বৃদ্ধি পাবে।
সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অর্থ বিলটি আইন হিসেবে পাস হওয়ার আগে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী সংশ্লিষ্ট বিধানটি বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন করলে নানা জটিলতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল। এছাড়া অনেক মাঝারি প্রতিষ্ঠান সাধারণ ভ্যাট ব্যবস্থার পরিবর্তে প্যাকেজ ভ্যাটের সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করতে পারে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের কর পরিশোধ সহজ করতে একসময় প্যাকেজ ভ্যাট চালু ছিল। তবে ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন-২০১২ কার্যকর হওয়ার পর স্বয়ংক্রিয় ভ্যাট ব্যবস্থার আওতায় এটি বাতিল করা হয়।
বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতি দীর্ঘদিন ধরে ক্ষুদ্র ও অতি ক্ষুদ্র ব্যবসাকে ভ্যাটের বাইরে রাখার দাবি জানিয়ে আসছে। সংগঠনের সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, অধিকাংশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীর ভোক্তার কাছ থেকে ভ্যাট আদায়ের সক্ষমতা নেই। জোরপূর্বক এটি বাস্তবায়ন করলে হয়রানি বাড়বে এবং এসএমই খাতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৭ লাখ ৭৫ হাজার প্রতিষ্ঠান ভ্যাট নিবন্ধনের আওতায় রয়েছে। গত অর্থবছরে আদায় হওয়া ১ লাখ ৪২ হাজার কোটি টাকার ভ্যাটের প্রায় ৬০ শতাংশ এসেছে বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (এলটিইউ) মাত্র ১০৯টি প্রতিষ্ঠান থেকে।
এদিকে ভূমি বিক্রির ক্ষেত্রে মূলধনি মুনাফা কর (গেইন ট্যাক্স) প্রস্তাবিত ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।



