আন্তর্জাতিকইন্ডিয়াএশিয়া

এবার ভারতের হাত কেটে দেওয়ার হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সিন্ধু নদীর পানিবণ্টন চুক্তিকে ঘিরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এ ইস্যুতে পাকিস্তানের এক শীর্ষ মন্ত্রী কড়া ভাষায় সতর্ক করে বলেছেন, দেশটির ন্যায্য পানির অংশে কেউ হস্তক্ষেপ করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।

ভারতের কেন্দ্রীয় জলশক্তি মন্ত্রী সি আর পাতিল সম্প্রতি জানিয়েছেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে চুক্তি অনুযায়ী ভারতের অংশের পানি পুরোপুরি ব্যবহারের সক্ষমতা অর্জন করবে দেশটি। তার এই মন্তব্যের পরই ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে তীব্র প্রতিক্রিয়া আসে।

ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক মন্ত্রী মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারতের নেতৃত্ব পাকিস্তানের দিকে পানির প্রবাহ সীমিত করতে চাইছে। তার ভাষ্য, কৃষিনির্ভর পাকিস্তানের জন্য পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়া খাদ্য নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির ওপর গুরুতর প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি বলেন, পাকিস্তানের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠীর জীবিকা কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই দেশের পানির অধিকার খর্বের যে কোনো চেষ্টা মেনে নেওয়া হবে না এবং প্রয়োজন হলে নিজেদের স্বার্থ রক্ষায় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মুসাদিক মালিক আরও দাবি করেন, আন্তর্জাতিক নদী ব্যবস্থাপনার নীতিমালা অনুযায়ী উজানের কোনো দেশ ইচ্ছামতো ভাটির দেশের পানিপ্রবাহ বন্ধ করতে পারে না। তার মতে, ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো কার্যকর রয়েছে এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।

একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি একতরফাভাবে বাতিল বা পরিবর্তনের সুযোগ নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, সিন্ধু নদীর পানি পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এ বিষয়ে দেশটি কোনো ধরনের আপস করবে না।

অন্যদিকে ভারতের অবস্থানও অনড়। গত বছর জম্মু ও কাশ্মীরের পহেলগামে প্রাণঘাতী হামলায় ২৬ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার পর নয়াদিল্লি সিন্ধু পানি চুক্তির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের দাবি, পাকিস্তান সন্ত্রাসবাদ দমনে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত চুক্তি পুনর্বহালের প্রশ্নই ওঠে না।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button