বাংলাদেশ

বাবার লাশ বাড়িতে রেখে এইচএসসি পরীক্ষা দিলেন মাসুমা, ফিরে গিয়ে দাফন

বাংলা টিভি ডেস্ক: বাবার মরদেহ ঘরে রেখে চোখের জল নিয়েই এইচএসসি পরীক্ষার হলে বসেছেন যশোরের এক শিক্ষার্থী। পরিবারের শোকাবহ পরিবেশের মধ্যেও বাবার স্বপ্ন পূরণের প্রত্যয়ে বুধবার (৩০ জুলাই) সকালে বেনাপোল কলেজ কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নেন মাসুমা আক্তার (১৮)। পরীক্ষা শেষ করে বাড়ি ফিরে বাবার জানাজা ও দাফনে অংশ নেন তিনি।

নিহত আব্দুস সামাদ (৬৫) বেনাপোল পৌর এলাকার নামাজগ্রামের বাসিন্দা। তিনি একজন আমদানিকারক এবং মেসার্স তাজমহল ট্রান্সপোর্ট ও হাজী মুছা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হঠাৎ স্ট্রোক করলে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। তিনি স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান রেখে গেছেন।

মাসুমা শার্শা উপজেলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। বাবার আকস্মিক মৃত্যুর পরও স্বজনদের অনুপ্রেরণায় তিনি নির্ধারিত সময়ের আগেই পরীক্ষাকেন্দ্রে পৌঁছান। সহপাঠী ও শিক্ষকদের সহযোগিতায় পরীক্ষায় অংশ নিলেও শোকের ভারে নির্ধারিত সময়ের আগেই খাতা জমা দিয়ে কেন্দ্র ত্যাগ করেন।

পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যায় মাসুমা বলেন, তার বাবা সবসময় তাকে উচ্চশিক্ষিত দেখতে চাইতেন। সেই স্বপ্নের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতেই তিনি গভীর শোকের মধ্যেও পরীক্ষা দিয়েছেন।

মাসুমার বড় চাচা আব্দুল গফুর জানান, পরীক্ষা শেষে বাড়ি ফেরার পর জোহরের নামাজের পর আব্দুস সামাদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বেনাপোল কলেজের কেন্দ্রসচিব ও অধ্যক্ষ কামরুজ্জামান শান্তি বলেন, সকালে বিষয়টি জানার পর কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীকে স্বাভাবিক পরিবেশে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেয়। তিনি জানান, চোখের পানি মুছতে মুছতেই মাসুমা পরীক্ষার খাতায় উত্তর লিখেছেন।

শার্শা উপজেলা কলেজের অধ্যক্ষ হাসানুজ্জামান অনুপম বলেন, মাসুমা একজন মেধাবী ও নিয়মিত শিক্ষার্থী। কঠিন এই সময়ে সহপাঠী ও শিক্ষকেরা তাকে মানসিকভাবে সহযোগিতা করেছেন, যাতে তিনি বাকি পরীক্ষাগুলোও ভালোভাবে সম্পন্ন করতে পারেন।

শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফজলে ওয়াহিদ বলেন, বাবা হারানোর শোক নিয়েও পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অত্যন্ত সাহসিকতার বিষয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশাসন ও কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীর প্রতি সর্বোচ্চ সহানুভূতিশীল আচরণ নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button