‘ইউএনওকে স্যার বললে আমাকেও বলতে হবে’

বাংলা টিভি ডেস্ক: দিনাজপুরের হাকিমপুর (হিলি) উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের বিরুদ্ধে এক সাংবাদিককে তথ্য সংগ্রহের সময় ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার দাবি জানানোর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় সাংবাদিক মহলে সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (৫ জুলাই) হাকিমপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় একাত্তর টেলিভিশনের হিলি প্রতিনিধি সামিউল ইসলাম আরিফ এ ঘটনার মুখোমুখি হন বলে অভিযোগ করেন।
সাংবাদিকের দাবি, তথ্য ও বক্তব্য সংগ্রহের জন্য তিনি উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কার্যালয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তাকে দাপ্তরিক শিষ্টাচার বা ‘অফিস ডেকোরাম’ অনুসরণ করার পরামর্শ দেন। এ সময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) যেভাবে ‘স্যার’ বলা হয়, একইভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকেও ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন।
এ বিষয়ে সামিউল ইসলাম আরিফ বলেন, পারস্পরিক সম্মানবোধ থেকেই সরকারি কর্মকর্তারা সম্মান পান। তবে তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সম্বোধন চাপিয়ে দেওয়া পেশাগত আচরণের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে হাকিমপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি গোলাম মোস্তাফিজার রহমান মিলন বলেন, সাংবাদিকদের দায়িত্ব হলো সরকারি কর্মকর্তাদের যথাযথ সম্মান দেওয়া। তবে কোনো সম্বোধন বাধ্যতামূলক করা গ্রহণযোগ্য নয়।
এ বিষয়ে দিনাজপুরের ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মো. গোলাম রসুল রাখি বলেন, সরকারি বিধিমালায় কোনো কর্মকর্তাকে নির্দিষ্টভাবে ‘স্যার’ বা ‘মহোদয়’ বলে সম্বোধন করার বাধ্যবাধকতা নেই। এটি ব্যক্তিগত ও সৌজন্যগত বিষয়।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মুহাম্মদ তানভীর হাসনাত রবিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।



