সন্তানকে শাশুড়ির কোলে রেখে HSC পরীক্ষা, পুত্রবধূকে শিক্ষক বানাতে চান শাশুড়ি

বাংলা টিভি ডেস্ক: মাত্র তিন মাস বয়সী সন্তানকে শাশুড়ির জিম্মায় রেখে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন শেরপুরের এক শিক্ষার্থী। সোমবার (৬ জুলাই) শেরপুর সরকারি কলেজ কেন্দ্রের ইংরেজি প্রথম পত্র পরীক্ষায় এমন অনুপ্রেরণাদায়ক দৃশ্য উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দৃষ্টি কাড়ে।
পরীক্ষার্থী জুঁই শেরপুর সরকারি মহিলা কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী। তিনি পরীক্ষা দিচ্ছিলেন, আর কেন্দ্রের বাইরে তার তিন মাস বয়সী কন্যা সন্তান সাইদা ফাতিহাকে কোলে নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন তার শাশুড়ি সুফিয়া বেগম।
সুফিয়া বেগম জানান, পুত্রবধূর লেখাপড়া চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে তিনি সবসময় উৎসাহ দিয়েছেন। তার স্বপ্ন, জুঁই পড়াশোনা শেষ করে একজন প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন। তিনি বলেন, একজন মা শিক্ষিত হলে তার সন্তানেরাও শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। তাই সংসারের দায়িত্ব নিজেই সামলে পুত্রবধূকে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছেন।
তিনি আরও জানান, বকশিগঞ্জ উপজেলার কামালপুর এলাকার বাসিন্দা তার ছেলে আব্দুর রহমানের সঙ্গে জুঁইয়ের বিয়ে এসএসসি পরীক্ষার আগেই হয়েছিল। তবে বিয়ের পরও তার পড়াশোনা বন্ধ হয়নি। পরিবারের সহযোগিতায় তিনি এসএসসি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেন এবং বর্তমানে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন।
জুঁই বলেন, শাশুড়ির সহযোগিতা ও অনুপ্রেরণাই তাকে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সাহস জুগিয়েছে। শিশুর দায়িত্ব তিনি নেওয়ায় কোনো দুশ্চিন্তা ছাড়াই পরীক্ষায় অংশ নিতে পেরেছেন।
ঘটনাটি দেখে শেরপুর সরকারি কলেজের সাবেক উপাধ্যক্ষ প্রফেসর শাহ কামাল উদ্দিন বলেন, এ ধরনের মানসিকতাই সমাজ পরিবর্তনের পথ দেখায়। তার মতে, একজন শিক্ষিত মা একটি শিক্ষিত প্রজন্ম গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন, আর সেই উপলব্ধির বাস্তব উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন সুফিয়া বেগম।
পরিবারের সমর্থন, নারীর শিক্ষার প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখার এই ঘটনা শেরপুরে উপস্থিত সবার কাছে অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।



