পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে অপপ্রচারের প্রতিবাদ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের

বাংলা টিভি ডেস্ক: সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে কক্সবাজার সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ আলীকে নিয়ে একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে নামাজ শেষে বের হওয়ার সময় ওসি শেখ মোহাম্মদ আলীর হাতে একটি জোড়া জুতা দেখা যায়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে কয়েকটি ব্যক্তি ও মাধ্যমে ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা হাতে ওসি’—এমন বক্তব্য ও শিরোনাম প্রচার করা হয়।
এ ধরনের প্রচারণার তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। সংগঠনটির দপ্তর সম্পাদক খান মো. মাসকোরাত হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ঘটনাটি যেভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে তা বাস্তবতার সম্পূর্ণ বিপরীত এবং বিভ্রান্তিকর।
বিবৃতিতে বলা হয়, ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা বহন করেননি। নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় তিনি নিজের ব্যবহৃত সরকারি অর্ডারফোর্স জুতা নিজ হাতেই বহন করছিলেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা নামাজ শেষে নিজের জুতা নিজ হাতে নিয়ে বের হওয়া অত্যন্ত স্বাভাবিক, শালীন ও ব্যক্তিগত আচরণ বলেও উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের দাবি, একটি আংশিক ভিডিওর দৃশ্যকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে সেটিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জুতা হিসেবে প্রচার করা হয়েছে। সংগঠনটির মতে, এ ধরনের প্রচারণা বিভ্রান্তিকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মর্যাদাহানিকর।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও স্বাধীন সাংবাদিকতার প্রতি বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন সর্বোচ্চ শ্রদ্ধাশীল। তবে কোনো পুলিশ সদস্য বা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীল ব্যক্তিকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও প্রকৃত তথ্য যথাসম্ভব যাচাই করে উপস্থাপনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সংগঠনটি সতর্ক করে বলেছে, আংশিক ভিডিও বা বিচ্ছিন্ন দৃশ্য থেকে তৈরি ভুল ব্যাখ্যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে জনমনে নেতিবাচক ধারণা সৃষ্টি করতে পারে। তাই সংবেদনশীল বিষয়ে তথ্যের যথার্থতা নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।
বিবৃতিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের প্রতি প্রকাশিত বিভ্রান্তিকর তথ্য বা শিরোনাম প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের সংবাদ প্রকাশে আরও সতর্কতা অবলম্বনের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন আশা প্রকাশ করেছে, পেশাদার সাংবাদিকতা ও দায়িত্বশীল পুলিশিংয়ের লক্ষ্যে জনগণের স্বার্থে সত্য ও সঠিক তথ্য প্রতিষ্ঠা করা হবে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, দায়িত্বশীলতা ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে গণমাধ্যম এবং পুলিশের মধ্যকার ইতিবাচক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।




