স্কুল বন্ধ হলেই অন্ধ মায়ের হাত ধরে ভিক্ষায় নামে নীরব

বাংলা টিভি ডেস্ক: জন্মের পরই বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত নীরব মিয়া। জন্মান্ধ মা শিউলি আক্তারের সঙ্গে নানা বাড়িতে থেকেই বেড়ে উঠছে সে। পরিবারের নিত্যদিনের অভাবের মধ্যেও নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ছে নীরব। তার স্বপ্ন পড়াশোনা করে ভবিষ্যতে একজন ভালো মানুষ হওয়া। কিন্তু দারিদ্র্য সেই স্বপ্ন পূরণের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিদ্যালয় বন্ধ থাকলে মায়ের হাত ধরে নান্দাইল বাজারে ভিক্ষা করতে যায় নীরব। শুক্র ও শনিবার মানুষের কাছে সাহায্য চেয়ে যে অর্থ পাওয়া যায়, তা দিয়েই কোনোভাবে চলে তাদের সংসার। সেই অর্থ থেকেই নীরবের পড়াশোনার খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় কিছু জিনিস কেনা হয়।
নীরবের মা শিউলি আক্তার নান্দাইল পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ভূঁইয়াপাড়া গ্রামের চাঁন মিয়ার মেয়ে। জন্ম থেকেই তিনি দৃষ্টিহীন। ২০১৭ সালে জাহাঙ্গীরপুর ইউনিয়নের কালিয়ান গ্রামের লালন মিয়ার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। দুই সন্তান জন্মের পর স্বামী তাদের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। এরপর দুই সন্তানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন শিউলি।
নীরবের ছোট ভাই রাব্বি মিয়াও একই বিদ্যালয়ের শিশুশ্রেণির শিক্ষার্থী। দুই সন্তানের পড়াশোনা ও সংসারের ব্যয় বহন করা শিউলির পক্ষে অত্যন্ত কঠিন। ফলে সপ্তাহের পাঁচ দিন সন্তানদের স্কুলে পাঠালেও ছুটির দুই দিন বড় ছেলে নীরবকে সঙ্গে নিয়ে বাজারে ভিক্ষা করতে বের হন তিনি। স্থানীয়দের মতে, শুক্র ও শনিবার মিলিয়ে তাদের প্রায় এক হাজার টাকা আয় হয়।
নীরব জানায়, পড়াশোনার জন্য নানা খরচ রয়েছে, কিন্তু পরিবারের আর্থিক সামর্থ্য নেই। বাবা তাদের খোঁজ না নেওয়ায় মাকে সহযোগিতা করতেই স্কুল বন্ধের দিনে তার সঙ্গে বাজারে যেতে হয়।
শিউলি আক্তার বলেন, স্বামী দুই সন্তান জন্মের পর আর তাদের দায়িত্ব নেননি। তিন মাস পরপর প্রতিবন্ধী ভাতা পেলেও সেই টাকা দিয়ে সংসারের সব খরচ চালানো সম্ভব হয় না। সন্তানদের স্কুলের বিভিন্ন প্রয়োজন মেটাতে তাই বড় ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে তাকে ভিক্ষা করতে বের হতে হয়।
নান্দাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মিলি আক্তার জানান, নীরব ও তার ছোট ভাই একই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করছে। ছুটির দিনে নীরব মায়ের সঙ্গে ভিক্ষা করতে যায়—এমন বিষয় তিনি শুনেছেন। বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তাদের খাতা-কলমসহ প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ দিয়ে সহযোগিতা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
নান্দাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাতেমা জান্নাত বলেন, পরিবারটির অসহায়ত্বের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে তাদের সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি এমন একটি ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হবে, যাতে পরিবারটির জন্য নিয়মিত আয়ের সুযোগ তৈরি হয় এবং নীরব ও তার ভাইয়ের পড়াশোনা চালিয়ে যেতে সমস্যা না হয়।



