নদীতে ডুব দিয়ে পানি খাওয়ার পর যমুনাকে ‘দূষণমুক্ত’ বললেন বিজেপি নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির যমুনা নদীর দূষণ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে নদীতে নেমে পানির মান ভালো বলে দাবি করেছেন বিজেপির সংসদ সদস্য মনোজ তিওয়ারি। বৃহস্পতিবার (৩০ অক্টোবর) দিল্লির সোনিয়া বিহার ঘাটে নদীতে ডুব দেওয়ার পাশাপাশি পানি হাতে তুলে পানও করেন উত্তর-পূর্ব দিল্লির এই সংসদ সদস্য।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, মনোজ তিওয়ারির দাবি, গত দেড় বছরে বিজেপি সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের ফলে যমুনার দূষণ প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। নদীতে পরিযায়ী পাখির উপস্থিতিকে পানির মান উন্নত হওয়ার প্রমাণ হিসেবেও তুলে ধরেন তিনি। তাঁর মন্তব্য, নদীতে কুমির থাকতে পারে এবং কুমির সাধারণত পরিষ্কার পানিতেই বসবাস করে।
যমুনা পরিষ্কারে বিজেপি সরকারের উদ্যোগের প্রশংসা করে মনোজ তিওয়ারি দিল্লির সাবেক আম আদমি পার্টি (এএপি) সরকারের সমালোচনা করেন। তাঁর দাবি, বর্তমানে নদীর পানি ছটপূজার মতো ধর্মীয় উৎসবে ব্যবহারের উপযোগী হয়েছে।
এদিকে বিজেপির দিল্লি শাখা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেছে, তাদের সরকার দুই বছরে যমুনা পরিষ্কারে যে অগ্রগতি অর্জন করেছে, কংগ্রেস ও এএপি দীর্ঘ ২৭ বছরেও তা করতে পারেনি। একই সঙ্গে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালকে যমুনার পানিতে ডুব দেওয়ার চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে দলটি।
বিজেপির এসব দাবির পাল্টা জবাব দিয়েছেন এএপির দিল্লি সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ। তাঁর বক্তব্য, যমুনার পাল্লা থেকে ওয়াজিরাবাদ পর্যন্ত প্রায় ২৬ কিলোমিটার অংশ ঐতিহাসিকভাবেই তুলনামূলক পরিষ্কার ছিল। দিল্লি দূষণ নিয়ন্ত্রণ কমিটির প্রতিবেদন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, এএপি সরকারের সময় ওই অংশের পানির মান আরও উন্নত হয়েছিল।
এ সময় মনোজ তিওয়ারি ও দিল্লির পানিসম্পদমন্ত্রী প্রবেশ ভার্মাকে পাল্টা চ্যালেঞ্জ জানান সৌরভ ভরদ্বাজ। তিনি তাঁদের কালিন্দী কুঞ্জ ঘাটের পানি পান করার আমন্ত্রণ জানান।
যমুনার পানিতে এখনো দূষণের মাত্রা বেশি
রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের মধ্যেই নদীর প্রকৃত পানির মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এনডিটিভির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দিল্লির বিভিন্ন এলাকায় যমুনার দূষণের মাত্রায় উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
নদীর পানিতে জৈব দূষণের পরিমাণ নির্ধারণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সূচক হলো বায়োকেমিক্যাল অক্সিজেন ডিমান্ড বা বিওডি। পানিতে থাকা জৈব বর্জ্য পচাতে অণুজীবের যে পরিমাণ অক্সিজেন প্রয়োজন হয়, তার ভিত্তিতে এই মাত্রা নির্ধারণ করা হয়। বিওডির পরিমাণ যত বেশি হয়, সাধারণত পানিতে জৈব দূষণের মাত্রাও তত বেশি থাকে।
গোসলের উপযোগী পানির ক্ষেত্রে বিওডির গ্রহণযোগ্য মাত্রা প্রতি লিটারে ৩ মিলিগ্রাম বা তার কম। কিন্তু দিল্লির কয়েকটি পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে এই মাত্রা নির্ধারিত সীমার চেয়ে অনেক বেশি পাওয়া গেছে।
তবে দিল্লিতে প্রবেশের মুখে পাল্লা এলাকায় বিওডির মাত্রা প্রতি লিটারে ২ মিলিগ্রাম পাওয়া গেছে, যা গ্রহণযোগ্য সীমার মধ্যে।
ফলে বিজেপি নেতার নদীতে ডুব দিয়ে পানি পরিষ্কার হওয়ার দাবি এবং বিভিন্ন পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের পরিবেশগত তথ্যের মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। যমুনার সামগ্রিক দূষণ পরিস্থিতি মূল্যায়নে নদীর বিভিন্ন অংশের বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফলাফলই গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে।



