রাজনীতি

নতুন স্বৈরাচারের উত্থান দেখছি: নাহিদ ইসলাম

বাংলা টিভি ডেস্ক: গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে একটি স্বৈরাচারী শাসনের অবসান হলেও দেশে নতুন করে স্বৈরাচারের উত্থান ঘটছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, পতিত স্বৈরাচার ও নতুন করে গড়ে ওঠা স্বৈরাচার—উভয় শক্তিকেই পরাজিত করা হবে।

শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বিকেলে রাজধানীর শাহবাগে চার দফা দাবিতে আয়োজিত গণবিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, হাজারো মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বৈরাচারকে বিদায় করা হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে আবারও নতুন স্বৈরাচারী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সমাবেশে দেশের চলমান পরিস্থিতি তুলে ধরে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলার অবনতি এবং সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিতে সাধারণ মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন এলাকায় মানুষের সঙ্গে কথা বলে এসব সমস্যার কথা তাঁরা জানতে পেরেছেন। তাঁর অভিযোগ, দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানেও দলীয়করণের প্রবণতা চলছে।

সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার ব্যর্থ হয়েছে। এ ব্যর্থতার দায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের ওপর বর্তায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনের পরিবর্তে মন্ত্রী সংবিধান সংশোধনের কাজে বেশি মনোযোগ দিচ্ছেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, জুলাই সনদ ও গণভোটের প্রতিশ্রুতি উপেক্ষা করে একতরফাভাবে সংবিধান সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ কারণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাশাপাশি জ্বালানিমন্ত্রীরও পদত্যাগ দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে প্রস্তাবিত সংবিধান সংশোধন কমিটি বাতিল করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের আহ্বান জানান।

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক অভিযোগ করেন, নির্বাচনী ইশতেহার, ৩১ দফা ও জুলাই সনদে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সরকার ব্যর্থ হচ্ছে। তাঁর দাবি, দেশ পরিচালনার সুস্পষ্ট পরিকল্পনার পরিবর্তে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের অভিযোগ সামনে আসছে।

আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার সম্ভাবনার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার পতিত স্বৈরাচারকে মোকাবিলা করতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ পরিস্থিতিতে তরুণ সমাজ ও গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে আবারও ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ও সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়েও বক্তব্য দেন নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, পাহাড়ি অঞ্চলে অস্থিরতা এবং ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলমানদের ওপর নিপীড়নের ঘটনা উদ্বেগজনক। এসব বিষয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষায় বর্তমান সরকার যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না বলেও দাবি করেন তিনি।

ভারতের সঙ্গে সম্ভাব্য করিডর এবং গঙ্গা পানিবণ্টন চুক্তি প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো ধরনের অবৈধ করিডর প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ জনগণ মেনে নেবে না। আগামী ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তি ন্যায্য ভিত্তিতে নবায়ন না হলে জনগণকে নিয়ে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, দেশে চলমান খুন, গুম, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের দায় নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ করতে হবে। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত সারা দেশে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার কথাও জানান তিনি।

সমাবেশে ঢাকা মহানগরীর রাজনীতিতে এনসিপির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন নাহিদ ইসলাম। তিনি জানান, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দলটির পক্ষ থেকে যথাক্রমে আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

তাঁদের নেতৃত্বে ঢাকা মহানগরবাসীর অধিকার ও নাগরিক সমস্যাগুলো নিয়ে মাঠে থাকার ঘোষণা দেন তিনি। একই সঙ্গে অতীতের নির্বাচনী অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে এবার নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে নির্বাচনে বিজয়ী করতে দলীয় নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

সমাবেশে নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে সরকারের পদত্যাগ, সংবিধান সংস্কার, সীমান্ত পরিস্থিতি, গঙ্গা চুক্তি এবং ঢাকা মহানগরীর নির্বাচনী রাজনীতির বিষয়গুলো বিশেষ গুরুত্ব পায়।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button