অপারেশন করতে গিয়ে রোগীর পায়ের রগ কেটে ফেললেন চিকিৎসক

বাংলা টিভি ডেস্ক: মাদারীপুরে পায়ের টিউমারের অস্ত্রোপচার করাতে গিয়ে গুরুতর বিপাকে পড়েছেন আনু বেগম (৫৫) নামে এক নারী। অস্ত্রোপচারের সময় ভুল চিকিৎসায় তাঁর পায়ের রগ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। পরে পরিস্থিতি সামাল দিতে একই ক্লিনিকে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
শনিবার আনু বেগমের স্বজনেরা জানান, সদর উপজেলার চর কালিকাপুর গ্রামের বাসিন্দা আনু বেগম পায়ে ব্যথা অনুভব করায় মাদারীপুর শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালের চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুমের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম, এক্স-রেসহ বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরে তাঁকে অস্ত্রোপচারের পরামর্শ দেন চিকিৎসক।
স্বজনদের ভাষ্য, শুক্রবার সকালে আনু বেগমের পায়ের গোড়ালিতে থাকা টিউমার অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার শুরু করেন মাহমুদুল হাসান মাসুম। প্রায় দেড় ঘণ্টা চেষ্টা করার পরও অস্ত্রোপচার শেষ করতে না পারায় পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় তাঁর পায়ের একটি রগ কেটে যায় বলে অভিযোগ স্বজনদের। এতে প্রচুর রক্তক্ষরণ শুরু হয়।
পরে একই হাসপাতালের আরেক চিকিৎসক রুহুল আমিন চয়নের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় তিন ঘণ্টা পর আনু বেগমকে বেডে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসার অভিযোগ এনে তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন রোগী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, এ পর্যন্ত ওষুধ ও চিকিৎসাসহ আনু বেগমের পেছনে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। এর বাইরে হাসপাতালের পক্ষ থেকে আরও ৭০ হাজার টাকার বিল করা হয়েছে। কৃষক স্বামী বুলু খানের পক্ষে এ বিপুল খরচ বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন স্বজনেরা।
আনু বেগমের ছেলে বাবলু খান অভিযোগ করে বলেন, চিকিৎসকের ভুলের কারণেই তাঁর মায়ের এমন পরিস্থিতি হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী চিকিৎসকের বিচার দাবি করেন।
আনু বেগম বলেন, তিনি নিজে হেঁটে ক্লিনিকে গিয়েছিলেন। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পর তাঁর পায়ের রগ কেটে যাওয়ায় এখন স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় দফার অস্ত্রোপচার করতেও কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে বলে জানান তিনি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুম বলেন, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্টে ত্রুটি থাকার কারণে অস্ত্রোপচারের সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় দফায় অস্ত্রোপচার করা হয়। তাঁর দাবি, এতে রোগীর বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হয়নি।
এ বিষয়ে জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. শরীফুল আবেদিন কমল বলেন, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁর ভাষ্য, টিউমারের অস্ত্রোপচার করতে গিয়ে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে এর দায় ক্লিনিক কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারে না।
জানা গেছে, চিকিৎসক মাহমুদুল হাসান মাসুম ঢাকার মহাখালীর জাতীয় ক্যানসার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। প্রতি শুক্রবার তিনি মাদারীপুর শহরের নুর জাহান সেলিম নিরাময় হাসপাতালে রোগী দেখেন।



