বাংলাদেশ

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের দিন তুহিনের গতিবিধি কেমন ছিল জানালেন তার মা

বাংলা টিভি ডেস্ক: কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার সন্দেহে আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের মায়ের হারিয়ে যাওয়া আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ।

তুহিনের মা যমুনা টেলিভিশনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। একই সঙ্গে ঘটনার দিন তার ছেলের চলাফেরার বিষয়েও তিনি বিস্তারিত জানিয়েছেন।

তুহিনের মা জানান, তার ছেলের ঘরের বিছানার নিচে একটি কালো শপিং ব্যাগের ভেতর থেকে আইফোনটি উদ্ধার করা হয়। তার ভাষ্য, সাদা পোশাকে কয়েকজন পুলিশ সদস্য তুহিনকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে আসেন এবং তার ঘরে তল্লাশি চালিয়ে ফোনটি পান।

ঘটনার দিনের বিষয়ে তুহিনের মা বলেন, শুক্রবার জুমার নামাজের পর খাবার খেয়ে তুহিন বাড়ি থেকে বের হয়। বিকেলে সে আবার বাসায় ফিরে আসে। তবে সন্ধ্যার কিছু পর পুনরায় বাইরে যায় এবং রাত ৯টার দিকে বাড়িতে ফেরে। এরপর সে ঘুমিয়ে পড়ে বলে জানান তার মা।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত অপ্রতিমের মোবাইল ফোনের অবস্থান কুমিল্লার গন্ধমতি এলাকায় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছিল। এরপর থেকে ফোনটির অবস্থান আর পাওয়া যায়নি।

অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করে পুলিশ। ফুটেজে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যাওয়ার পর তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

পুলিশ জানায়, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস নামের আরেকজনকে আটক করা হয়। পরে ফাহিম আহমেদসহ আরও দুজনকে হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।

অপ্রতিম কুমিল্লা বর্ডারগার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাসা থেকে মায়ের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তুলতে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় সে।

দীর্ঘ সময় খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে ওই দিনই সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন অপ্রতিমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার। এরপর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও পুলিশ বিভিন্ন এলাকায় তার সন্ধানে অভিযান চালায়।

নিখোঁজের প্রায় ২১ ঘণ্টা পর শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি লালমাই পাহাড়সংলগ্ন সানন্দা এলাকার একটি জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে মরদেহ কুমিল্লা সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। পুলিশের পক্ষ থেকে তার মাথায় গুরুতর আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে।

শনিবার রাতে ময়নাতদন্ত শেষে অপ্রতিমের মরদেহ কোটবাড়ি গন্ধমতির নিজ বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে শেষবারের মতো দেখতে সেখানে স্বজন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের ভিড় জমে। পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের আবহ।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে অপ্রতিমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে বেলা ১১টায় গন্ধমতিতে দ্বিতীয় জানাজা শেষে বাড়ির পাশের কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।

অপ্রতিমের মৃত্যুতে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে শোকে স্তব্ধ তার মা ড. নাহিদা বেগম। সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আশায় যে পরিবার অপেক্ষা করেছিল, শেষ পর্যন্ত তাকে নিথর মরদেহেই বিদায় জানাতে হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর

Back to top button